মাঝআকাশে বিমানের জানালা ভেঙে ছিটকে পড়ার সময় স্বামীকে বাঁচালেন স্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
মাঝআকাশে হুট করে ভেঙে যায় যাত্রীবাহী বিমানে জানালার অ্যাক্রিলিক অংশ। পাশে থাকা যাত্রীর শরীরের কিছুটা অংশ বেরিয়ে যায়। এ সময় দ্রুত তার দুই পা শক্ত করে ধরে ফেলেন পাশের আসনে বসে থাকা স্ত্রী।
নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান স্বামী। পরে অন্য যাত্রীদের সহায়তায় তাকে বিমানের ভেতরে টেনে আনা সম্ভব হয়।
ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনগামী মাল্টা এয়ার পরিচালিত রায়ানএয়ারের একটি ফ্লাইটে।
এ বিষয়ে সার্বিয়ার সংবাদমাধ্যম নোভাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সভেতলানা গ্রকোভিচ জানিয়েছেন, তার স্বামী লিউবিশা কারোভিচ ইঞ্জিন বিকলের পর জানালার অ্যাক্রিলিক অংশ ভেঙে গেলে মাথার দিক থেকে বাইরে ছিটকে পড়েন। তখন তার শরীরের অর্ধেক অংশ বিমানের বাইরে ঝুলছিল।
তিনি বলেছেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গে তার দুই পা ধরে ফেলি। প্রায় দুই মিনিট তার বুক পর্যন্ত অংশ বিমানের বাইরে ছিল। পরে আরও দুই যাত্রীর সহায়তায় অচেতন হয়ে পড়া স্বামীকে বিমানের ভেতরে টেনে আনি।’
সভেতলানা জানান, সেই মুহূর্তে তার মনে একটাই চিন্তা এসেছিল-‘যদি মরতে হয়, তাহলে একসঙ্গেই মরব।’
সহযাত্রীরা জানান, ৬১ বছর বয়সী লিউবিশা কারোভিচ সিটবেল্ট বাঁধা থাকায় পুরোপুরি বিমানের বাইরে ছিটকে পড়েননি। তবে তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারান।
সভেতলানা জানিয়েছেন, তার স্বামী এখনো গ্রিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার হাত গুরুতরভাবে আহত হয়েছে, শরীরে দগ্ধের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি এখনো পুরো ঘটনার কিছুই মনে করতে পারছেন না।
রায়ানএয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর এক যাত্রীর পাশের জানালার অংশ খুলে গেলে বিমানটি নিরাপদে থেসালোনিকি বিমানবন্দরে ফিরে আসে। পরে যাত্রীদের জন্য বিকল্প উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করা হয় এবং তারা একই দিন জার্মানির উদ্দেশে যাত্রা সম্পন্ন করেন।
গ্রিসের হেলেনিক এয়ার অ্যান্ড রেল সেফটি ইনভেস্টিগেশন অথরিটি ঘটনার তদন্ত করছে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান




