ইইউতে ফিরতে ‘শেষ রায় জনগণের’, বললেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
দশ বছর আগে ইউরোপ থেকে বিচ্ছেদের পক্ষে রায় দিয়েছিল ব্রিটেন। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে তর্ক এখনও থামেনি। এবার ইউরোপিয় ইউনিয়নের সঙ্গে অর্থনৈতিক দূরত্ব কমানোর ডাক দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। জানালেন, সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে শেষ কথা বলবেন দেশের মানুষই।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বার্নহ্যাম ঘোষণা করেছেন, আগামী ২০ নভেম্বর ব্রাসেলসে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ বৈঠক হবে। দ্য গার্ডিয়ান ও স্কাই নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনীতি চাঙা করা এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা বাড়ানোই তার প্রধান লক্ষ্য।
পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে বার্নহ্যাম বলেছেন, ‘বর্তমান অবস্থায় আটকে থাকা ব্রিটেনের জন্য যথেষ্ট নয়।’ ইউরোপের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়াকে তিনি ‘দায়িত্ব পালনে গুরুতর ব্যর্থতা’ বলে অভিহিত করেন। তার কথায়, ‘প্রতিটি পর্যায়ে ব্রিটিশ জনগণই হবেন সিদ্ধান্তের মালিক।’
তবে এই বক্তব্য নতুন গণভোট ঘোষণার সমান নয়। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, আপাতত কোনো গণভোটের প্রস্তাব নেই। দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্কের সম্ভাব্য পথগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করতে চান তিনি। ব্রেক্সিটের রায়ও বাতিল করতে চাইছেন না বলে জানিয়েছেন।
বিরোধীরা জানতে চেয়েছেন, ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইউরোপীয় নাগরিকদের অবাধ চলাচল ফিরবে কি না। একাধিকবার প্রশ্ন উঠলেও সরাসরি হ্যাঁ বা না বলেননি বার্নহ্যাম। শুধু আশ্বাস দিয়েছেন, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া সীমারেখা বহাল থাকবে। এতে তাঁর দলের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট পড়েছিল এমন আসনের কয়েকজন সাংসদ পুরোনো বিভাজন ফিরে আসার আশঙ্কা করছেন। বিশেষ করে কর্মসংস্থান ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
২০ নভেম্বরের বৈঠকে খাদ্য ও পানীয়পণ্যের বাণিজ্যে বাধা কমানো, কার্বন নিঃসরণ বাণিজ্যব্যবস্থার সমন্বয়, জ্বালানি সহযোগিতা এবং তরুণদের যাতায়াতের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে অগ্রগতি চায় লন্ডন। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকার নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। বার্নহ্যামের দাবি, সম্ভাব্য চুক্তিগুলো ব্রিটিশ অর্থনীতিতে বছরে এক হাজার কোটি পাউন্ডের সুফল আনতে পারে। এটি সরকারের প্রত্যাশা, নিশ্চিত ফল নয়।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডার লায়েন বৈঠকে থাকবেন। এর আগে জুলাইয়ে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর তা পিছিয়ে যায়। ইউরোপীয় পক্ষও নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্ব জানিয়েছে।
তবে পথ মসৃণ নয়। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেত্রী কেমি বাডেনক বলেছেন, বার্নহ্যাম ভালো চুক্তি আদায় করতে পারবেন না। ইউরোপের ‘মেড ইন ইউরোপ’ নীতিতে ব্রিটিশ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিতর্ক বাড়িয়েছে আরেকটি মন্তব্য। বার্নহ্যামের দাবি, ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল। তবে সেই দাবির পক্ষে নতুন প্রমাণ প্রকাশ করেননি তিনি। বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে প্রধানমন্ত্রী আবার বলেছেন, গণভোটের ফল বৈধ ছিল এবং তিনি তা মেনে নিয়েছেন।
এক দশক আগে ব্রিটেনের ভোটাররা ইউরোপের সঙ্গে বিচ্ছেদের পথ বেছেছিলেন। এবার সামনে নতুন প্রশ্ন। বিচ্ছেদ অক্ষুণ্ণ রেখেই কি কাছে আসা সম্ভব? নভেম্বরের বৈঠক সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার প্রথম পরীক্ষা।



