গ্রিসে আগুন নেভানোর সময় দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে নিহত ২

সংগৃহীত ছবি
গ্রিসে দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় আকাশে দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে দুই ক্রু নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন ডেনমার্কের পাইলট এবং অন্যজন গ্রিসের অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের সমন্বয়কারী কর্মকর্তা।
রাজধানী এথেন্সের প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে রবিবার এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি বেল হেলিকপ্টার অন্যটির পাখায় আঘাত করলে সেটিতে আগুন ধরে যায় এবং সেটি একটি গিরিখাতে বিধ্বস্ত হয়। অন্য হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করে।
গ্রিসের অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকডারমট অ্যাভিয়েশনের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া দুটি হেলিকপ্টার আটিকা-বোয়েটিয়া সীমান্তে ছড়িয়ে পড়া বড় একটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল। দুর্ঘটনায় একটি হেলিকপ্টারের দুই ক্রুকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও অন্য হেলিকপ্টারের দুই ক্রুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস দুর্ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
দুর্ঘটনার পর দেশ জুড়ে সব বেল হেলিকপ্টার সাময়িকভাবে মাটিতে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্রিটিশ পাইলট ও গ্রিসের অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের আরেক কর্মকর্তা সামান্য আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ব্রিটিশ পাইলটটি দাবানলের মৌসুমে নিয়োগ পাওয়া বেসরকারি পাইলট ছিলেন। তিনি যুক্তরাজ্য ও গ্রিসের মধ্যে কোনো সরকারি সহযোগিতা কার্যক্রমের অংশ ছিলেন না।
ম্যাকডারমট অ্যাভিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা জন ম্যাকডারমট নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে দাবানল নিয়ন্ত্রণে এরিকসন এয়ার-ক্রেন ও চিনুক হেলিকপ্টারের পাশাপাশি কানাডেয়ার পানি ছোড়ার উড়োজাহাজ কাজ করছে। গ্রিসের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ব্যাপকসংখ্যক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইউরোপের অন্যান্য দেশেও দীর্ঘ তাপপ্রবাহের মধ্যে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স ও স্পেনে বড় কয়েকটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও আগুন পুরোপুরি নেভেনি। প্রায় ৩ লাখ মানুষ, যাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, এরই মধ্যে তারা বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।
গ্রিসে গত ৭২ ঘণ্টায় পাঁচ শতাধিক দমকলকর্মী বিভিন্ন এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশির ভাগ দাবানল মানুষের ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত কাজের মাধ্যমে শুরু হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিস্থিতি আরও বাড়ছে।
সূত্র : বিবিসি




