চাকরি হারাতে পারেন আড়াই লাখ ব্রিটিশ

সংগৃহীত ছবি
ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানির বাজারে ধাক্কা লাগার পর মন্দার ঝুঁকিতে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি। এমন আশঙ্কার মধ্যে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারেন বলে উঠে এসেছে নতুন বিশ্লেষণে।
অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস যখন ব্যাংকপ্রধানদের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈঠক করছেন, তখন দুটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে অর্থনীতির ঝুঁকির চিত্র। ইওয়াই আইটেম ক্লাব বলছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে যুক্তরাজ্য পড়তে যাচ্ছে কভিড-১৯ পরবর্তী সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কার মুখে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতি স্থবির থাকতে পারে, ফলে বাড়ছে মন্দার আশঙ্কা। ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে নেমে আসতে পারে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশে। একই সময়ে বেকারত্বের হার বর্তমান ৫ দশমিক ২ থেকে বেড়ে ২০২৭ সালের মধ্যে পৌঁছাতে পারে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে।
ইওয়াই আইটেম ক্লাবের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ম্যাট সোয়ানেল বলছেন, ‘জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে প্রযুক্তিগত মন্দার মুখে পড়তে পারে যুক্তরাজ্য। ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে, আর ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ পরিকল্পনায়।’
প্রতিবেদনটি আরও বলছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ। তবে সুদের হারে তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
অন্যদিকে ডেলয়েটের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের বড় কোম্পানিগুলোর প্রধান আর্থিক কর্মকর্তারা কভিড মহামারী শুরুর পর সবচেয়ে বেশি হতাশ। মার্চের শেষ দিকে আস্থার সূচক নেমে গেছে ঋণাত্মক ৫৭ শতাংশে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ঋণাত্মক ১৩ শতাংশ।
ডেলয়েট জানায়, অর্থনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে শীর্ষে রয়েছে জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার এবং সাইবার হামলার আশঙ্কা। প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে খরচ কমানো ও নগদ সঞ্চয়ে জোর দিচ্ছে এবং বিনিয়োগ ও নিয়োগ কমাচ্ছে।
ডেলয়েট যুক্তরাজ্যের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়ান স্টুয়ার্টের ভাষ্য, ‘গত ১৬ বছরে খুব কম সময়ই দেখা গেছে আর্থিক কর্মকর্তারা এখনকার মতো খরচ নিয়ন্ত্রণে এত বেশি মনোযোগী।’
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এরই মধ্যে সতর্ক করেছে, জি৭ দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধি পতনের মুখে পড়তে পারে। একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে ওইসিডিও।



