প্রথমবারের মতো জার্মানিতে নারী রাষ্ট্রপতির দাবি

ছবি: রয়টার্স
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে ১২ জন ব্যক্তি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অভিভাবক রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে এবারই প্রথম ৮০ বছর পর জার্মানির পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একজন নারীকে প্রার্থী করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
জার্মানিতে ক্ষমতাসীন দুই দলীয় জোটের শরীক মধ্য বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) প্রকাশ্যে নারী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ক্ষমতাসীন জোটের আরেক দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে দলটির কয়েকজন নেতা নারী প্রার্থীর পক্ষে জোরালো মত দিয়েছেন।
জানা গেছে, জার্মানির সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ারের মেয়াদ আর কয়েমাস পরেই শেষ হবে। আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি ফেডারেল অ্যাসেম্বলিতে ( উচ্চ ও নিম্নকক্ষের সদস্যদিনের নিয়ে গঠিত) নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করায় স্টাইনমায়ার আর প্রার্থী হতে পারবেন না।
জার্মানির একাধিক গণমাধ্যমকে ক্ষমতাসীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) এর সংসদীয় দলের নেতা থরস্টেন ফ্রাই বলেছেন, তাদের দল এখনো প্রার্থী ঠিক করেনি। সেপ্টেম্বরে কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তারা সিদ্ধান্ত নিবেন। তখন ফেডারেল অ্যাসেম্বলিতে রাজনৈতিক দলগুলোর শক্তির হিসাবও স্পষ্ট হবে। এরপর প্রার্থী নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আলোচনায় ইলসে আইগনার
সম্ভাব্য নারী প্রার্থী হিসেবে এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছেন জার্মানির পশ্চিমের গূরুত্বপূর্ণ রাজ্য বাভারিয়ার প্রাদেশিক সংসদের সভাপতি ইলসে আইগনার। বাভারিয়ার মুখ্যমন্ত্রী ও ক্রিশ্চিয়ান সোশালিস্ট ইউনিয়ন (সিএসইউ) নেতা মার্কুস সুইডার তার প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে গূরুত্ব নেতারা কেউ এ বিষয়ে মুখ খোলেন নি।
ক্ষমতাসী দলের সংসদীয় দলের নেতা থরস্টেন ফ্রাইও গণমাধ্যমে আইগনারের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, অভিজ্ঞ, যোগ্য ও জনপ্রিয় রাজনীতিক হিসেবে আইগনার ফেডারেল প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত। আমার মতে শুধু নারীরাই সম্ভাব্য প্রার্থী নন। গূরুত্বপূর্ণ রাজ্য হেসের মুখ্যমন্ত্রী বরিস রাইনের নামও আলোচনায় এসেছে। সিডিইউর এই নেতাকে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন ফ্রাই।
বিরোধী দলের অভিমত
জার্মানির বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বাডেন-ভুর্টেমবার্গের মুসলিম মুখ্যমন্ত্রী জেম ওজদেমিরও নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জার্মানির ফেডারেল প্রেসিডেন্ট পদে এখন পর্যন্ত ১২ জন পুরুষ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের পর একজন নারীকে নির্বাচিত করা হলে তা হবে শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
জার্মানির রাজনীতিতে নারী
জার্মানির ফেডারেল প্রেসিডেন্ট পদে এখন পর্যন্ত কোনো নারী দায়িত্ব পালন করেননি। তবে দেশটির রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় উদাহরণ অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল। ম্যার্কেল ২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলর ছিলেন। এসময় তিনি ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা হয়ে ওঠেন। তবে প্রেসিডেন্ট ও চ্যান্সেলরের দায়িত্ব এক নয়। জার্মানির প্রেসিডেন্ট মূলত রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করেন। চ্যান্সেলর সরকারের প্রধান। ফলে এবার একজন নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তা হবে জার্মানির রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন।




