ইইউতে ফিরতে এবার অর্থ ঢালবে ব্রিটেন
- বিদ্যুতের বাজারে প্রবেশাধিকার পেতে দরিদ্রতর ইউরোপীয় দেশগুলোকে অর্থসহায়তার প্রস্তাব
- বিদ্যুৎ বাণিজ্যে ব্রেক্সিটের কারণে প্রায় ১০০ কোটি পাউন্ড অতিরিক্ত ব্যয়
- ২০ নভেম্বর ব্রাসেলসে ইইউ-বার্নহ্যাম বৈঠক, চূড়ান্ত হয়নি অর্থের পরিমাণ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল ব্রিটেন। প্রতিশ্রুতি ছিল, নিজেদের অর্থ আর জোটের কোষাগারে পাঠাতে হবে না। ছয় বছর পর সেই ব্রিটেনই আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) অর্থ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায়! বিনিময়ে মিলবে বিদ্যুতের বিশাল বাজারে অবাধ লেনদেনের সুযোগ। কিন্তু যে বিচ্ছেদের অন্যতম যুক্তি ছিল অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, সেই সিদ্ধান্তের পর আবার কেন অর্থ দিতে হতে পারে লন্ডনকে? ব্রেক্সিটের পুরোনো বিতর্কে নতুন করে আগুন জ্বালিয়েছে এই প্রশ্ন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন সমঝোতার খসড়ায় তুলনামূলক দরিদ্র সদস্যদেশগুলোর উন্নয়ন প্রকল্পে ব্রিটেনের আর্থিক অবদানের প্রস্তাব রয়েছে। এর বিনিময়ে ব্রিটিশ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোপের অভিন্ন বিদ্যুৎবাজারে অংশ নিতে পারবে।
এই অর্থ ইউরোপের পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে সড়ক, বিমানবন্দর ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মতো প্রকল্পে ব্যবহৃত হতে পারে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, ইউরোপের অভিন্ন বাজারে ব্রিটেন যতটা অংশগ্রহণ করবে, সেই সুবিধার অনুপাতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য কমাতে আর্থিক অবদান রাখতে হবে।
তবে কত অর্থ দেওয়া হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। চুক্তিও চূড়ান্ত হয়নি।
গত ৩০ জানুয়ারি বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, ইউরোপীয় দেশগুলো বিদ্যুৎবাজারে প্রবেশাধিকারের বিনিময়ে ব্রিটেনের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা চাইছে। নরওয়ে একই ধরনের ব্যবস্থায় বছরে প্রায় ৩৯ কোটি ১০ লাখ ইউরো অনুদান দেয়। তবে ব্রিটেনের ক্ষেত্রেও সমপরিমাণ অর্থ নির্ধারিত হবে, এমন নয়।
ব্রেক্সিটের পর ২০২১ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিন্ন বিদ্যুৎবাজার থেকে বেরিয়ে যায় ব্রিটেন। ফলে বিদ্যুতের আন্তঃদেশীয় লেনদেন আগের তুলনায় জটিল ও ব্যয়বহুল হয়েছে।
ব্রিটেনের ন্যাশনাল গ্রিডের হিসাবে, নতুন ব্যবস্থার কারণে বিদ্যুৎ বাণিজ্যে প্রায় ১০০ কোটি পাউন্ড অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। ২০৩০ সাল নাগাদ বছরে অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াতে পারে ৩৫ কোটি পাউন্ডে।
গত ৩০ মার্চ বিদ্যুৎবাজার ও উন্নয়ন তহবিল নিয়ে আলোচনার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয় ইইউ। তবে ব্রিটিশ সরকার বলেছে, এখনও কোনো অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। চুক্তি হলে তা দেশের স্বার্থে এবং ব্যয়ের তুলনায় লাভজনক হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম আগামী ২০ নভেম্বর ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাঁর দাবি, ইউরোপের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তিগুলো ব্রিটিশ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক চার শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে রিফর্ম ইউকের উপনেতা রিচার্ড টাইস অভিযোগ করেছেন, আবার ইউরোপে বিপুল অর্থ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে নতুন নিয়ম ও ব্যয় বাড়বে বলে তাঁর আশঙ্কা।
ব্রেক্সিটের সময় ব্রিটেনের প্রশ্ন ছিল, ইউরোপকে অর্থ দিয়ে কী লাভ? এখন প্রশ্নটি উল্টো। ইউরোপের বাজারের বাইরে থেকে যে ক্ষতি হচ্ছে, তা পুষিয়ে নিতে অর্থ দেওয়া কি লাভজনক হবে? বিচ্ছেদের ছয় বছর পর ব্রিটেন যেন আবার সেই পুরোনো হিসাবের সামনেই দাঁড়িয়ে।



