ক্যাথলিক প্রতিনিধিদের বরণ করে সম্প্রীতির নজির গড়ল প্যারিসের গ্র্যান্ড মসজিদ

সংগৃহীত ছবি
আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও সংলাপের এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ঐতিহাসিক প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ফ্রান্সের বিশপ সম্মেলনের জাতীয় পরিষেবার প্রায় ১০০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল মসজিদটি সফর করে।
সফরকালে অতিথিদের প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদের কার্যক্রম, ইসলামী সভ্যতার ইতিহাস এবং ফ্রান্সে মুসলিম সম্প্রদায়ের দীর্ঘ ঐতিহ্য সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়।
সফর শেষে খ্রিস্টান প্রতিনিধিদের সম্মানে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় মধ্যাহ্নভোজ, যা দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের বার্তা আরও জোরালো করে।
সফরকারী প্রতিনিধিদলে ফ্রান্সের ক্যাথলিক বিশপ সম্মেলনের বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অংশ নেন। এর মধ্যে ছিলেন সম্মেলনের মহাসচিব ও মুখপাত্র ফাদার ক্রিস্টোফ ল্য সু, মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কবিষয়ক জাতীয় প্রতিনিধি ফাদার জ্যঁ-ফ্রাঁসোয়া বুর, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ বিভাগের প্রতিনিধি মোনসিনিয়র অলিভিয়ে রিবো, ধর্মীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিভাগের কর্মকর্তা ফাদার পিয়ের লামার এবং সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম বিভাগের প্রতিনিধি ফাদার লুই মোরো।
সফরের শুরুতে অতিথিদের প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদের হলরুমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। তাদের স্বাগত জানান মসজিদের রেক্টর শেমস-এদ্দিন হাফিজ।
সফরকালে প্রতিনিধিরা মসজিদের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং ইসলামী স্থাপত্যশৈলী, ধর্মীয় কার্যক্রম ও ফ্রান্সে মুসলিম সমাজের অবদান সম্পর্কে ধারণা নেন। একই সঙ্গে মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের শত বছরের সহাবস্থান, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা হয়।
রেক্টর শেমস-এদ্দিন হাফিজ বললেন, আপনাদের উপস্থিতি আমাদের জন্য আশার প্রতীক। আপনাদের স্বাগত জানাতে পারা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।
তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে পোপ লেও চতুর্দশের প্যারিস সফরকে তারা শান্তি ও মানবতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে তাকেও প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদে স্বাগত জানানোর আশা প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বললেন, এখানে আপনারা নিজেদের ঘরেই আছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে ধর্মীয় পরিচয় ও সামাজিক সংহতির চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এই সফর মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ও সংলাপকে আরও সুদৃঢ় করেছে।




