নতুন সমুদ্রতলদেশ ইন্টারনেট ক্যাবলে যুক্ত হবে সাইপ্রাস ও সিরিয়া

নতুন এই প্রকল্পটি ১৯৯৫ সালে স্থাপিত বর্তমান উগারিত ক্যাবলের পরিবর্তে ব্যবহৃত হবে।
সাইপ্রাস ও সিরিয়ার মধ্যে নতুন একটি সমুদ্রতলদেশ ইন্টারনেট ক্যাবল স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। ‘উগারিত-২’ নামে এই প্রকল্পটি ২০২৮ সালের শুরুতে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আরও দ্রুত ও আধুনিক ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হবে।
রবিবার প্রকাশিত এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন ক্যাবলটি সাইপ্রাসের পেন্টাসখিনোস এবং সিরিয়ার তারতুস শহরকে সংযুক্ত করবে। প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ক্যবল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিরিয়ান টেলিকমিউনিকেশনস এস্টাবলিশমেন্ট (সাইটা) এবং ইউনিফাই কমিউনিকেশনস।
নতুন এই প্রকল্পটি ১৯৯৫ সালে স্থাপিত বর্তমান উগারিত ক্যাবলের পরিবর্তে ব্যবহৃত হবে। পুরোনো ক্যাবলের ডেটা পরিবহন ক্ষমতা মাত্র ৬২২ মেগাবিট প্রতি সেকেন্ড, যা বর্তমান চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
গত ২৮ জুলাই দামেস্কে প্রকল্পটির নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, সিরিয়ার নতুন অর্থনৈতিক কাঠামোর আওতায় এটিই প্রথম বড় আন্তর্জাতিক অবকাঠামো প্রকল্প।
ইউনিফাই কমিউনিকেশনসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অ্যাড্রিয়ান শাতকু বলেছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সিরিয়া আবারও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে শক্তিশালীভাবে যুক্ত হতে পারবে।
তিনি বলেছেন, উগারিত-২ প্রকল্পটি প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, ইউরোপের অংশীদারিত্ব এবং সিরিয়ার দৃঢ় সংকল্প একত্রিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারে।
অন্যদিকে, সাইটার প্রধান জর্জ মেটজাকিস বলেন, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রকল্পে ইতালির প্রতিষ্ঠান প্রাইসমিয়ান সাবমেরিন কেবল সরবরাহ করবে। সমুদ্রপথে কেবল স্থাপনের কাজ পরিচালনা করবে এলেত্রা। আর প্রথম ধাপে অপটিক্যাল ট্রান্সমিশন প্রযুক্তি সরবরাহ করবে নোকিয়া।
ইতোমধ্যে ক্যাবলের সম্ভাব্য রুট নিয়ে সমুদ্র জরিপ এবং কেবল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্য, ২০২৮ সালের শুরুতেই এটি সম্পূর্ণ করা।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অনুমোদনের ভিত্তিতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এটিকে সিরিয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা-পরবর্তী সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেছে।






