কলম্বিয়ায় ট্রাম্পের ‘পছন্দের’ প্রেসিডেন্ট, ১০০ কোটি ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: রয়টার্স
লাতিন আমেরিকায় নিজের প্রভাবের বলয় আরও শক্ত করতে এবার কলম্বিয়ার নতুন ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার দিকে হাত বাড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রশাসন কলম্বিয়া সরকারকে ১০০ কোটি ডলারের নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে এ তথ্য।
দে লা এসপ্রিয়েলা শুক্রবারই কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। অপরাধ দমন এবং দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। নির্বাচনের সময় প্রকাশ্যেই তাকে সমর্থন জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই নবায়িত অংশীদারত্বের ভিত্তি হিসেবে কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্র ১০০ কোটি ডলারের সহায়তা ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছে। এটি একটি নিরাপত্তা সহায়তা প্যাকেজের অংশ, যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলার প্রশাসনকে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করা হবে।’
দে লা এসপ্রিয়েলা সরকারকে সমর্থনের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন কলম্বিয়াকে তার তৈরি করা ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’-এও স্বাগত জানিয়েছে। মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করা ডানপন্থী নেতাদের নিয়ে গঠিত সামরিক জোট হিসেবে এটিকে প্রতিষ্ঠা করেছেন ট্রাম্প।
ক্ষমতায় ফেরার পর লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও প্রভাব বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করেছেন ট্রাম্প।
এরই মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে একটি প্রাণঘাতী অভিযানে আটক করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ক্যারিবীয় সাগরে নৌযান লক্ষ্য করে একাধিক মার্কিন সামরিক হামলাও হয়েছে, যাতে নিহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকারকর্মীরা এসব পদক্ষেপকে অবৈধ ও সাম্রাজ্যবাদী বলে সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, এসব হামলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল।
তবে এসব অভিযানকে মাদক পাচার ও অবৈধ অভিবাসন ঠেকানোর প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরেছেন ট্রাম্প।
কলম্বিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতার বিপরীতে দেশটির সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক ছিল তীব্র বিরোধপূর্ণ। সাবেক এই গেরিলা নেতা ছিলেন কলম্বিয়ার প্রথম বামপন্থী প্রেসিডেন্ট।
বিভিন্ন ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়েছিলেন পেত্রো। গাজায় ইসরায়েলের হামলার বিষয়ে ট্রাম্পকে ‘গণহত্যায় সহযোগী’ বলেও অভিযুক্ত করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি ক্যারিবীয় জলসীমায় নৌযানগুলোয় মার্কিন হামলার ঘটনায় ‘ফৌজদারি কার্যক্রম’ চালানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।
নির্বাচনের সময় দে লা এসপ্রিয়েলাকে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থনেরও সমালোচনা করেছিলেন পেত্রো।





