দক্ষিণ কোরিয়ায় ডেটা সেন্টার বিনিয়োগ স্থগিত গুগল ও মেটার

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বখ্যাত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল এবং মেটা দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের পরিকল্পিত ডেটা সেন্টার স্থাপন ও ক্লিন এনার্জি বিনিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত ঘোষণা করেছে। এআই চালিত ডেটা সেন্টারগুলোর নিরবচ্ছিন্ন কার্যকারিতার জন্য বিপুল পরিমাণ পরিবেশবান্ধব পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ শক্তির স্থায়ী যোগান প্রয়োজন হলেও, কোরিয়ায় পর্যাপ্ত শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা বা ‘এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের’ মারাত্মক ঘাটতি থাকায় প্রতিষ্ঠান দুটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সম্প্রতি গুগল ও মেটার সদর দপ্তরের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত গোপনে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করে স্থানীয় রিনিউয়েবল এনার্জি বা নবায়নযোগ্য শক্তি খাতের স্টার্টআপগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে মূল্যায়ন শেষে দেশের দুর্বল এনার্জি স্টোরেজ পরিকাঠামোর কারণে পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে তারা নতুন বিনিয়োগ থেকে সরে দাঁড়ায়। মঙ্গলবার প্রাপ্ত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইএসজি (পরিবেশগত, সামাজিক ও শাসনসংক্রান্ত) নীতিমালা মেনে চলা বাধ্যতামূলক হওয়ায় গুগল ও মেটার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব কার্বন-মুক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু সৌর বা বায়ু বিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন আবহাওয়া ও সময়ের ওপর নির্ভর করে ওঠানামা করায়, তা নিরবচ্ছিন্নভাবে ডেটা সেন্টারে সরবরাহের জন্য শক্তিশালী ইএসএস ব্যাটারি সঞ্চয় ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়।
বর্তমানে কোরিয়া পাওয়ার এক্সচেঞ্জ চাহিদা কম থাকলে বিদ্যুৎ গ্রিড রক্ষায় ওভারসাপ্লাই কমাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দেয়, যা বৃহৎ প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামোর জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা।
গুগল ও মেটার মতো আন্তর্জাতিক জায়ান্টদের হাতছাড়া হওয়ার ঘটনাটি কোরিয়ার ভবিষ্যৎ এআই ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন একে দিয়েছে। বৈশ্বিক টেক হাব হিসেবে কোরিয়ার অবস্থান বজায় রাখতে ক্লিন এনার্জি স্টোরেজ ক্ষমতার গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং গত ৪ আগস্ট এক প্রেসিডেন্সিয়াল পলিসি ব্রিফিংয়ে অবিলম্বে দেশে ইএসএস সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের জন্য নীতিগত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরুরি ভিত্তিতে ইএসএস অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে শুধু গুগল বা মেটাই নয়, অন্যান্য বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও ভবিষ্যতে দক্ষিণ কোরিয়াকে বাদ দিয়ে বিকল্প এশীয় দেশের দিকে চোখ ফেরাবে।





