৭০ পেরিয়েও কেন কাজ করে যেতে চান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রবীণরা

ছবি: রয়টার্স
দক্ষিণ কোরিয়ায় বয়স বাড়লেই অবসরে যাওয়ার প্রচলিত ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, সীমিত সামাজিক নিরাপত্তা এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশটির অনেক প্রবীণই ৭০ বছর পার হওয়ার পরও কর্মজীবন চালিয়ে যেতে চান।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ৫৫ থেকে ৭৯ বছর বয়সী অধিকাংশ মানুষ গড়ে ৭৩ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি দ্য কোরিয়া টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই বাস্তবতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন কাজ করে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ অর্থনৈতিক প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি)-ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবীণ দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি। দেশটিতে প্রায় ৩৯ শতাংশ প্রবীণ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছেন।
জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় পেনশনের পরিমাণ কম হওয়ায় অনেকের পক্ষে শুধু অবসর ভাতার ওপর নির্ভর করে চলা সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসা ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলাতে অনেকেই আবার সন্তানদের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেই আয় করতে চান।
তবে শুধু অর্থের প্রয়োজনেই নয়, সক্রিয় জীবনযাপনও প্রবীণদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার আরেকটি বড় কারণ। দীর্ঘ কর্মজীবনের পর হঠাৎ অবসরে গেলে অনেকেই একাকীত্ব ও মানসিক অবসাদে ভোগেন।
তাই বয়স ৭০ পেরিয়েও পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, কুরিয়ার সেবাকর্মী কিংবা বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক কাজে যুক্ত থেকে তারা নিজেদের কর্মক্ষম ও সমাজের অংশ হিসেবে রাখতে চান।
তবে কাজ করার আগ্রহ থাকলেও শ্রমবাজারে প্রবীণদের জন্য উপযুক্ত সুযোগ এখনো সীমিত। বয়সের কারণে অনেকেই যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পান না। ফলে কম মজুরির খণ্ডকালীন কিংবা তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ কাজেই তাদের যুক্ত হতে হয়।
এ কারণে অবসরের বয়স বাড়ানো এবং প্রবীণদের জন্য সমন্বিত কর্মসংস্থান নীতি চালুর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে। তবে এ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার এখনো ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বয়স্ক সমাজে পরিণত হওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রবীণদের শুধু নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী হিসেবে না দেখে তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগানো।
উপযুক্ত মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে প্রবীণদের কর্মজীবন দেশের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হতে পারে।




