নয়দিন পর ধরা পড়ল ‘সেলিব্রিটি নেকড়ে’

চিড়িয়াখানার খাঁচা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে নেকড়েটিকে। ছবি: রয়টার্স
দক্ষিণ কোরিয়ায় এখন ভার্চুয়াল স্টার একটি দুই বছর বয়সী নেকড়ে। নয়দিন আগে চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে যায় এটি। টানা নয়দিন ব্যাপক খোঁজাখুঁজির পর একে ধরা হয়েছে নিরাপদে। এ খবর রীতিমতো উদযাপন করছে কোরিয়াবাসী। ভাইরাল নেকড়েটি পরিণত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় তারকায়।
৮ এপ্রিল দেজিয়নে ও-ওয়ার্ল্ড চিড়িয়াখানায় খাঁচা থেকে গর্ত খুঁড়ে বেরিয়ে যায় নিউকগু নামের পুরুষ নেকড়েটি। ২০১৮ সালে একই চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে যাওয়া একটি পুমাকে ধরার পর মেরে ফেলা হয়। এর ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটতে পারে এবং চিড়িয়াখানার বাইরে বাঁচতে পারবে কি না— এরকম প্রশ্ন তুলে প্রশাসনকে উদ্ধারের জন্য চাপ দিতে থাকেন প্রাণী অধিকারকর্মীরা।
ইন্টারনেটজুড়ে বিষয়টি রূপ নেয় জাতীয় দুশ্চিন্তায়। এমন বাস্তবতায় বিবৃতি দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংও। তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করেন, নেকড়েটিকে জীবিত ধরার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং সেনাবাহিনী।
এ সপ্তাহের শুরুতে চিড়িয়াখানার কাছের একটি পাহাড়ে নিউকগুকে দেখতে পায় কর্তৃপক্ষ। তাকে প্রায় ধরেই ফেলেছিল, কিন্তু উদ্ধারকর্মীদের তৈরি করা বেষ্টনী থেকে পালিয়ে যায় সে। এরপর নেকড়েটিকে দেখতে পান একজন গাড়িচালক। তার পেছনে ছুটে গাড়ির হেডলাইটের আলোয় ভিডিও করেন তিনি। শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, অন্ধকার পাহাড়ি রাস্তায় ছুটে চলছে নেকড়েটি।
কর্তৃপক্ষের মতে, কয়েক ঘণ্টার দীর্ঘ তল্লাশির পর অবশেষে শুক্রবার ভোরে একটি হাইওয়ের কাছের পাহাড় থেকে খুঁজে পাওয়া যায় নিউকগুকে। ড্রোন ব্যবহার করে পরিচালিত হয় এ অভিযান। এতে অংশ নেয় পৌরসভা, চিড়িয়াখানা, পুলিশ, ইমার্জেন্সি সার্ভিস এবং পশুচিকিৎসকদের একটি দল।
পাহাড়ে ধরার পর চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করা হয় নেকড়েটিকে। পরে একে ফিরিয়ে আনা হয় চিড়িয়াখানায়। অচেতন অবস্থায় পশুচিকিৎসকরা তার পেট থেকে বের করেন একটি মাছ ধরার বড়শি। চিকিৎসকদের মত, অন্য কোনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং বর্তমানে সুস্থ আছে নেকড়েটি। সামাজিকমাধ্যমে উদ্ধারের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
যেখানে দেখা যায়, একটি খাদ থেকে নিস্তেজ নেকড়েটিকে টেনে তুলে খাঁচায় রেখেছেন উদ্ধারকারীরা। চিড়িয়াখানায় চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষা চলছে তার। মুহূর্তেই আনন্দ, উদযাপন ও উপদেশের পোস্টে ভরে যায় সোশ্যাল মিডিয়া।
যার মধ্যে ‘স্বাগতম’ এবং ‘নেউকগু, বাড়ির বাইরে বিপদজনক’ এমন বার্তাও ছিল অনেক। এক ফেসবুক পোস্টে দেজনের মেয়র লি জাং-উ লিখেছেন, ‘নেউকগুর নিরাপদে ফিরে আসা নিশ্চিত করতে ব্যাপক সমর্থনের জন্য দেজনের নাগরিক এবং সমগ্র জাতির প্রতি প্রকাশ করছি গভীর কৃতজ্ঞতা।’
২০২৪ সালে চিড়িয়াখানায় জন্ম নেয় নিউকগু। রাশিয়া থেকে ২০০৮ সালে একদল নেকড়ে আনা হয় সিউলে। নেকড়েটি ওই দলের তৃতীয় প্রজন্মের বংশধর। এ জাতটি ১৯৬০-এর দশকে কোরিয়া থেকে বিলুপ্ত হয় এবং আর দেখা যায়নি বন্য পরিবেশে। দেশে আবারও এ নেকড়ের জাতটি ফিরিয়ে আনতে দেড়যুগ আগে রাশিয়া থেকে আনা হয় বিশেষ প্রকল্পের আওতায়।
ও-ওয়ার্ল্ডের পরিচালক লি কোয়ান জং নিশ্চিত করেন, নিউকগু সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত তাকে অন্য প্রাণী থেকে আলাদা একটি জায়গায় রেখে করা হবে পরিচর্যা। একাধিক প্রাণী পালানোর ঘটনায় সমালোচিত চিড়িয়াখানাটি বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, চিড়িয়াখানাটি কবে আবার খুলবে সে বিষয়ে এখনো হয়নি কোনো সিদ্ধান্ত।
লি কোয়ান জং বলেছেন, চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং তারা নিউকগুর সুস্থ হয়ে ওঠাকে দিচ্ছে অগ্রাধিকার। আশা করা হচ্ছে, চিড়িয়াখানাটি পুনরায় খোলার পর নিউকগু হবে একটি বড় আকর্ষণ।


