সিউলে নারী সুরক্ষায় নতুন আইনের বিরুদ্ধে নারীদেরই বিক্ষোভ

ছবি: রয়টার্স
দক্ষিণ কোরিয়ার ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের সংশোধন করে প্রসিকিউশনের সম্পূরক তদন্তের ক্ষমতা পুরোপুরি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন দেশটির নারী অধিকারকর্মীরা। তাদের আশঙ্কা, এই ক্ষমতা তুলে নেওয়া হলে পুলিশের তদন্তে কোনো গাফিলতি বা ত্রুটি থাকলেও তা সংশোধনের সুযোগ কমে যাবে। এতে সহিংসতা ও বিভিন্ন অপরাধের শিকার নারীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় সিউলের জংনো-গুর বোসিংগাকের সামনে ‘উইমেনস পার্টি’র আয়োজনে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার।
বিক্ষোভকারীরা ৪ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের সংশোধনীকে ‘ভুক্তভোগীদের দ্বিতীয়বার হত্যা করার শামিল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের প্রতি সংশোধিত বিলে ভেটো দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সমাবেশে উইমেনস পার্টির মুখপাত্র ইউ জি-হে বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট মন্ত্রিসভায় বিলটি অনুমোদনের আগে হয়তো ভালোভাবে পড়েও দেখেননি। নারী নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল মামলায় পুলিশের তদন্তে গাফিলতি থাকলে সত্য উদঘাটনের জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা থাকা জরুরি।’
দলের জরুরি কমিটির প্রধান পার্ক জিন-সুক সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘বিকল্প কোনো শক্তিশালী ব্যবস্থা না করে প্রসিকিউশনের সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা বাতিল করা মানে ঘরের মূল খুঁটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে সাজানোর চেষ্টা। এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।’
সমাবেশে সাধারণ নারী ও আইনজীবীরাও তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। আইনজীবী লি কিয়ং-হা সংশোধনীটিকে ‘নজিরবিহীন কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘এই আইনের ফলে ভুক্তভোগীরা নিজেরা তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ না করলে বা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনমত তৈরি করতে না পারলে আর কোনো সুরক্ষা পাবেন না। এটি নারী ভুক্তভোগীদের চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে।’
অন্য বক্তারাও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি রাজনৈতিক বিরোধের কারণে নাগরিক সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবস্থা বাতিল করা ঠিক হবে না।
১৯৫৪ সালে ফৌজদারি কার্যবিধি আইন প্রণয়নের পর এই প্রথম দীর্ঘ ৭২ বছরের ইতিহাসে প্রসিকিউশনের সরাসরি ও সম্পূরক তদন্তের ক্ষমতা পুরোপুরি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নারী অধিকারকর্মীদের মতে, পুলিশ এককভাবে তদন্তের এই ক্ষমতা পেলে জবাবদিহিতা কমতে পারে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সহিংসতার শিকার নারী ভুক্তভোগীরা।




