আফগানিস্তানে এক বছরে আফিম চাষ বেড়েছে ৩৩০ শতাংশ

ছবি: রয়টার্স
আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত জমির পরিমাণ ৩৩০ শতাংশ বেড়ে ৪৩ হাজার হেক্টরের বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি)। ২০২৫ সালে এ জমির পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ হাজার হেক্টর।
আফিমের আনুমানিক উৎপাদন বেড়েছে ৪০০ শতাংশ। গত বছর প্রায় ৩০০ টন উৎপাদনের বিপরীতে এ বছর তা বেড়ে দেড় হাজার টনের সামান্য কম হয়েছে।
তবে ২০২২ সালে তালেবানের নিষেধাজ্ঞার আগে আফিম চাষের যে পরিমাণ ছিল, বর্তমান পরিস্থিতি এখনো তার চেয়ে অনেক নিচে। নিষেধাজ্ঞার আগে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে আফিম চাষ হতো।
কয়েক দশক ধরে অবৈধ আফিমের বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎস ছিল আফগানিস্তান। নিষেধাজ্ঞার আগে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ করা আফিমের প্রায় ৮০ শতাংশই আসত দেশটি থেকে।
২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতা দখল করে তালেবান। ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে ২০২২ সালের এপ্রিলে তারা পোস্ত চাষসহ সব ধরনের মাদক নিষিদ্ধ করে।
শস্যখেতের আড়ালে আফিম চাষ
কার্যত আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বছর তারা ২২ হাজার হেক্টর জমির পোস্তগাছ ধ্বংস করেছে। তবে ইউএনওডিসি বলেছে, অনেক কৃষক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর কৌশল রপ্ত করেছেন বলে মনে হচ্ছে। কেউ কেউ শস্যখেতের মধ্যে বা দেয়ালঘেরা প্রাঙ্গণে ছোট ছোট জমিতে পোস্ত চাষ করছেন। আবার কেউ কেউ শনাক্ত হওয়া এড়াতে বিভিন্ন সময়ে বীজ বপন ও ফসল কাটছেন।
ইউএনওডিসির নির্বাহী পরিচালক মনিকা জুমা বললেন, ‘দরিদ্র কৃষকদের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকলে অবৈধ আফিম চাষ কমিয়ে আনা ধরে রাখা কতটা কঠিন, তারই প্রমাণ এই চাষ চার গুণ বেড়ে যাওয়া।’
তিনি কৃষক সম্প্রদায়ের সহায়তায় একসঙ্গে কাজ করার জন্য কার্যত আফগান কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ জন্য জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থা, কৃষি অবকাঠামো এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরিতে বিনিয়োগের কথা বলেন তিনি।
গত বছর প্রতি কেজি আফিমের দাম ছিল ৫৭০ ডলার। এ বছর তা কমে ৫০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার আগে প্রতি কেজির দাম ১০০ ডলারেরও কম ছিল। অর্থাৎ দাম এখনো আগের তুলনায় অনেক বেশি।
ইউএনওডিসি বলেছে, বিভিন্ন অঞ্চলে আফিমের দামের বড় পার্থক্যের কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মাদক পাচারের প্রবণতা বাড়তে পারে।
কমে আসছে মজুত
ইউএনওডিসির জরিপে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার পর থেকে অঞ্চলের মাদক পাচারকারীরা সরবরাহ অব্যাহত রাখতে আফিমের পুরনো মজুতের ওপর নির্ভর করে আসছেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাদক জব্দের তথ্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, এসব মজুত কমে আসছে। ইউএনওডিসির ২০২৬ সালের বিশ্ব মাদক প্রতিবেদনেও ইউরোপে হেরোইনের সরবরাহ কমে আসার প্রাথমিক লক্ষণ পাওয়া গেছে।
চাহিদা স্থিতিশীল থাকা এবং দাম বেশি থাকার কারণে সরবরাহ কমে গেলে আফগানিস্তানে আফিম চাষ আরও বাড়তে পারে।
মনিকা জুমা বললেন, ‘আফগানিস্তানসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে আন্তদেশীয় মাদক পাচারকারী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত ও সেগুলো ভেঙে দিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’
ইউএনওডিসি জানিয়েছে, নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বোঝা যাবে, এ বছর আফিম চাষের এই উল্লম্ফন সাময়িক, নাকি আফিম ও হেরোইন উৎপাদনের পুনরুত্থানের সূচনা।
সূত্র: ইউএন নিউজ




