কাবুলে শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় স্কুলের কাছে গ্রেনেড হামলা, আহত বহু শিশু

সংগৃহীত ছবি
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সোমবার বিকালে একটি স্কুলের কাছে গ্রেনেড হামলায় প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু আহত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাতে এমন তথ্য উঠে এসেছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে।
কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান সোমবার রাতে জানান, হামলায় ‘বেশ কয়েকজন শিশু’ আহত হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক রিচার্ড বেনেট মঙ্গলবার এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।
আফগান গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে প্রায় ৫০ শিশু আহত হয়েছে। কাবুলের যে এলাকায় বিস্ফোরণটি ঘটেছে, সেখানে মূলত হাজারা জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ শতাংশ হাজারা। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে তারা হামলা ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে।
হাজারাদের অধিকাংশই শিয়া মুসলিম। সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ আফগানিস্তানে অতীতে ইসলামিক স্টেটের মতো সুন্নি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো বারবার তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে বৈষম্যেরও শিকার হয়েছে এই সম্প্রদায়।
২০২১ সালের মে মাসে, তালেবান ক্ষমতা দখলের কয়েক মাস আগে, কাবুলের একটি স্কুলে পরপর তিনটি বোমা হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছিলেন। ওই হামলায় নিহত সবাই হাজারা সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। নিহতদের বেশির ভাগই ছিল স্কুল ছুটির পর বের হওয়া কিশোরী।
সোমবারের বিস্ফোরণের ঘটনাস্থলের মতো ওই স্কুলটিও কাবুলের দাশত-ই-বারচি এলাকায় অবস্থিত ছিল। এলাকাটি আফগান রাজধানীর প্রধান হাজারা অধ্যুষিত এলাকা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেনেট বলেছেন, হামলার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে একটি স্বাধীন তদন্ত জরুরি।
তিনি লেখেন, ‘আবারও কাবুলের এই প্রধানত হাজারা অধ্যুষিত এলাকাটিকে লক্ষ্য করা হলো। নিন্দনীয়!’







