সিঙ্গাপুরে যেভাবে বই পড়লেই মিলছে টাকা

ছবি: রয়টার্স
‘বই পড়লে মেলে টাকা’। শুনতে অদ্ভুত শোনালেও এমনই একটি কর্মসূচি শুরু করেছে সিঙ্গাপুর। আরও বেশি মানুষকে বই পড়তে উৎসাহিত করতে এই কর্মসূচি। দেশটির এই উদ্যোগে নির্দিষ্ট সময় বই পড়ার পর অনলাইনে তা নথিভুক্ত করলে মানুষকে কিছু অর্থ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ড (এনএলবি) চলতি মাসে পাঁচ বছর মেয়াদি এই কর্মসূচি শুরু করেছে। সিএনএন জানিয়েছে, একটি সরকারি ওয়েবসাইটে পড়ার সময় নথিভুক্ত করে ভার্চুয়াল কয়েন অর্জন করতে পারবেন মানুষ।
এই কর্মসূচির আওতায় অন্তত ১৫ মিনিট পড়লে পাওয়া যাবে ২০ কয়েন। ১ হাজার কয়েন জমলে পাওয়া যাবে ১ সিঙ্গাপুর ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৭ টাকা)। প্রতিদিন কেবল একটি পড়ার সেশন নথিভুক্ত করা যাবে। অর্থাৎ ১ সিঙ্গাপুর ডলার পেতে একজনকে ৫০ দিন আলাদা করে ১৫ মিনিট করে পড়তে হবে।
মানুষ যখন ছোট ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য অনলাইন কনটেন্টে আরও বেশি সময় কাটাচ্ছে, তখন পড়ার অভ্যাসকে নিয়মিত করে তোলাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
এনএলবির প্রধান মেলিসা ট্যাম বলেছেন, স্বল্পদৈর্ঘ্যের কনটেন্ট মানুষকে তথ্য সম্পর্কে অবগত থাকতে সহায়তা করতে পারে। তবে দীর্ঘ লেখা পড়ায় বেশি সময় ব্যয় করলে মনোযোগ, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ও কল্পনাশক্তি বাড়তে পারে।
তিনি আরও বললেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা এমন একটি পাঠকসমাজ দেখতে চাই, যারা কৌতূহলী, চিন্তাশীল ও বিচক্ষণ এবং ক্রমবর্ধমান জটিল এই বিশ্বে নিজেদের পথ চলার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা রাখে।’
বিভিন্ন দেশের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা যখন মানুষের কমে যাওয়া মনোযোগের ব্যাপ্তি এবং পরিবর্তিত পড়ার অভ্যাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, তখন এই কর্মসূচি চালু হলো।
আন্তর্জাতিক পড়ার দক্ষতা পরীক্ষায় সিঙ্গাপুর ইতিমধ্যে ভালো করছে। তবে শিক্ষার্থীরা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দের জন্য পড়ার অভ্যাস কমে যেতে পারে। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনের লোহ চিন ই বলেছেন, যারা নিয়মিত পড়েন না, তাদের জন্য ১৫ মিনিটের লক্ষ্য নির্ধারণ করা সহজ।
লোহ বললেন, ‘যা ঘটেছে তা হলো, পড়ার কথা বললে অনেক মানুষ এখনো পড়েন, স্ক্রিনে লেখা পড়ার অর্থে। কিন্তু গভীরভাবে পড়া, পড়ার জন্য সময় দেওয়া এবং পড়ার প্রতি নিবেদিত থাকা হয়তো কমে গেছে।’ তিনি বলেছেন, মানুষ এখনো ফোন ও কম্পিউটারে অনেক কিছু পড়েন। তবে গভীরভাবে পড়ার পেছনে তারা হয়তো কম সময় দিচ্ছেন।
সিঙ্গাপুরের ৩২ বছর বয়সী ঝুঁকি বিশ্লেষক আইজ্যাক নিও বলেছেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উঠলে শিক্ষার্থীরা আনন্দের জন্য পড়ার প্রতি আগ্রহ হারাতে পারে।
তিনি বললেন, ‘অনেক বড় বড় পরীক্ষা থাকে এবং আপনি শুধু যে বিষয়গুলোর ওপর পরীক্ষা হবে, সেগুলো পড়তে শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে অবসর সময়ে পড়ার অভ্যাসটি হারিয়ে যায়।’
বই ও জীবনধারা নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করেন ২৮ বছর বয়সী চারমেইন লিম। তিনি জানান, গণপরিবহনে মানুষকে বই পড়তে দেখতেই তিনি বেশি পছন্দ করবেন—এমনকি পড়তে গিয়ে কেউ নিজের গন্তব্যের স্টপেজও পার করে ফেললেও। চারপাশে ক্রমাগত টিকটকের ভিডিও এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি চীনা নাটকের শব্দ শোনার চেয়ে এটিই তার কাছে বেশি পছন্দের।
এই কর্মসূচির সঙ্গে একটি দাতব্য উদ্যোগও রয়েছে। এনএলবি আশা করছে, চলতি বছর মানুষ মোট ৭৫ লাখ মিনিট পড়ার সময় নথিভুক্ত করবেন। এর মাধ্যমে দাতব্য কাজে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা) সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
সূত্র: এনডিটিভি




