নেপালের ভয়াবহ বন্যার সম্ভাব্য কারণ জানালেন ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ

নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়
নেপালের বন্যার ভয়াবহতায় যখন বিহ্বল পৃথিবীবাসি তখন েএকের পর এক আসছে কারণ অনুসন্ধানি রির্পোট। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা প্রথমে বলেছিল ভূমিকম্প। পরে সংশোধনি এনে বলেছে হিমবাহ ধস। থেমে অন্যান্য ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থাও। এমনকি বন্যায় বিধ্বস্ত নেপাল থেকেও এসেছে বিশ্লেষণ। শুক্রবার ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেসজ্ঞ জানিয়েছেন তাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা সম্ভাব্য কারণ।
নেপালের রাসুয়া ও ত্রিশূলী নদী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পেছনে বরফধস বা আইস এভাল্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ ড. বসন্ত রাজ অধিকারী।
ড. অধিকারী ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ডিজেস্টার স্ট্যাডিজ -এর পরিচালক। তার মতে, লেন্দে খোলায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনা হিমালয় অঞ্চলে একাধিক দুর্যোগ পরপর ঘটার ঝুঁকির একটি উদাহরণ।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়াগাধি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উজানে লেন্দে নদীতে একটি বরফধস ঘটে থাকতে পারে। এতে নদীর প্রবাহ সাময়িকভাবে আটকে যায়। পরে সেই বাধা ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, পাথর ও পলি হঠাৎ নিচের দিকে নেমে আসে। এর ফলেই ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়নি। বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্যাটেলাইট ছবি, ভূকম্পন, নদীর প্রবাহ এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।
সম্ভাব্য ঘটনাক্রম হলো—বরফধস, নদীর প্রবাহ বন্ধ, পানি জমে যাওয়া, বাধা ভেঙে যাওয়া এবং এরপর হঠাৎ বিপুল পানির ঢল নেমে এসে বন্যা সৃষ্টি। তাই আপাতত বরফধসকে নেপালের এই ভয়াবহ বন্যার সম্ভাব্য ট্রিগার হিসেবে দেখা হচ্ছে, চূড়ান্ত কারণ হিসেবে নয়।







