সু চির জন্য ‘ভালো কিছু’ ভাবছেন জান্তা প্রেসিডেন্ট

২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর, নেপিদোতে তৎকালীন স্টেট কাউন্সিলর সু চির পাশে সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। ছবি: এএফপি
মিয়ানমারের সাবেক প্রেসিডেন্টকে কারামুক্তি দেওয়ার পরই আলোচনায় আসে কবে বদলাবে অং সান সুচির ভাগ্য। এবার সু চিকে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত করা নেতা থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইং নিজেই শোনালেন আশার বাণী। নোবেলজয়ী ও বর্তমানে কারাবন্দি এই নেত্রীর জন্য ভালো কিছুই ভাবছে মিন অং হ্লাইং সরকার।
বুধবার সাবেক এই জেনারেলের সঙ্গে বৈঠকের পর এ তথ্য জানালেন থাইল্যান্ডের শীর্ষ কূটনীতিক।
নেপিদোতে মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক পুয়াংকেতকেও। মিন অং হ্লাইং নিজের প্রেসিডেন্ট পদ নিশ্চিত করার পর দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের কোনো সদস্য রাষ্ট্রের প্রথম কোনো উচ্চপদস্থ দূত হিসেবে এই সফর তার।
মিন অং হ্লাইংয়ের লক্ষ্য এখন মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটানো। এ জন্য তিনি মরিয়া। নিজের নতুন বেসামরিক পরিচয় ব্যবহার করে আসিয়ানের নিষেধাজ্ঞা কাটানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন
থাইল্যান্ডে ফেরার আগে রেকর্ড করা এক ভিডিও বার্তায় সিহাসাক জানান, তিনি বৈঠকের সময় অং সান সু চির প্রসঙ্গ তোলেন। মিন অং হ্লাইং তাকে জানিয়েছেন, সু চির ‘ভালো যত্ন নেওয়া হচ্ছে’। তার সরকার এখন তাকে নিয়ে ভালো কিছু করার কথা ভাবছে।
‘আসিয়ানের অনেক দেশই অং সান সু চি এবং তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। আর তিনি (মিন অং হ্লাইং) ভালো কিছুর কথা বিবেচনা করার বিষয়টি আশ্বস্ত করেছেন। এটি একটি ইতিবাচক সংকেত,’ বলছিলেন সিহাসাক।
তবে মিন অং হ্লাইং এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। জান্তা নিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র বা টেলিভিশনগুলোতে এই বৈঠকের খবর প্রচার হলেও সেখানে ছিল না সু চির প্রসঙ্গ।
সু চি বেঁচে আছেন?
কারবন্দি স্টেট কাউন্সিলর সু চি বেঁচে আছেন কি না এবং সুস্থ আছেন কি না— জানার জন্য বিশ্বজুড়ে সমর্থকরা অনলাইনে ‘প্রুফ অব লাইফ’ ক্যাম্পেইন চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে সু চির মুক্তির জন্য নতুন করে তৈরি হয়েছে কূটনৈতিক চাপ। এমন সময়েই প্রকাশ্যে এল জান্তা প্রধানের মন্তব্য।
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পর সু চিকে গ্রেপ্তার করে জান্তা। এরপর থেকে বাইরের জগতের সঙ্গে তার সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তার ছেলে কিম আরিস।
পাঁচ দফা ঐকমত্যের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে মিয়ানমারকে আসিয়ানে ফেরানোর প্রক্রিয়ার পক্ষে থাইল্যান্ড
৮০ বছর বয়সী এই নেত্রী বর্তমানে ভোগ করছেন ২৭ বছরের কারাদণ্ড। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একাধিক অভিযোগে তাকে দেওয়া হয় এ সাজা। তিনি বর্তমানে ঠিক কোথায় বন্দি আছেন, তা অজানা।
গত সপ্তাহে একটি সাধারণ ক্ষমার আওতায় তার সাজার মেয়াদ কমানো হয় এক-ষষ্ঠাংশ। ওই একই ক্ষমার অধীনে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট উ উইন মিন্টসহ মুক্তি পেয়েছে হাজার হাজার বন্দি।
লক্ষ্য বিচ্ছিন্নতা কাটানো
ডিসেম্বর ও জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর সম্প্রতি নতুন সরকার গঠন করেছেন মিন অং হ্লাইং। ক্ষমতার ওপর নিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে নিজেই প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। তবে তার এই তথাকথিত ‘বেসামরিক’ সরকারকে জান্তার গুটিকয়েক মিত্র দেশ ছাড়া স্বীকৃতি দেয়নি কেউ।
মিন অং হ্লাইংয়ের লক্ষ্য এখন মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটানো। এজন্য তিনি মরিয়া। নিজের নতুন বেসামরিক পরিচয় ব্যবহার করে আসিয়ানের নিষেধাজ্ঞা কাটানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর জোটের ‘পাঁচ দফা ঐকমত্য’ শর্তভঙ্গ করায় শীর্ষ সম্মেলনে নিষিদ্ধ নেপিদো। শর্তের মধ্যে ছিল সহিংসতা বন্ধ রাখা।
নিজের অভিষেক বক্তৃতায় আসিয়ানের সঙ্গে ‘স্বাভাবিক সম্পর্ক’ পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জান্তাপ্রধান।
থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাকের ভাষ্য, থাইল্যান্ড পাঁচ দফা ঐকমত্যের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে মিয়ানমারকে আসিয়ানে ফেরানোর প্রক্রিয়ার পক্ষে।
‘তারা নিজেদের উন্নতি দেখানোর চেষ্টা করছে। বিষয়গুলো খুবই জরুরি। কারণ আমরা চাই তারা আসিয়ানে ফিরুক। আমরা তাদের সাহায্য করতে চাই। কিন্তু তারা যদি নিজেরা নিজেদের সাহায্য করতে না পারে, তবে আমাদের পক্ষে তা সম্ভব নয়,’ বৈঠকের পর ভিডিও বার্তায় বলছিলেন সিহাসাক।





