এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে আটকা পড়েছেন শত শত পর্বতারোহী

বর্তমানে বেস ক্যাম্পে থাকা পর্বতারোহীরা ছোট ছোট পাহাড়ে আরোহণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাটাচ্ছেন সময়। ছবি : সংগৃহীত।
মাউন্ট এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে আটকা পড়েছেন শত শত পর্বতারোহী ও শেরপা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৩০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এই ক্যাম্প। এখানে বার্ষিক বসন্তকালীন আরোহণ মৌসুম শুরু হলেও একটি বিশাল বরফখণ্ডের কারণে যাত্রা শুরু করতে পারছেন না তারা।
এভারেস্টের আরোহণের সবচেয়ে বিপজ্জনক পথ হিসেবে পরিচিত খুম্বু আইসফল এলাকায় একটি বিশাল সেরাক (হিমবাহের বরফখণ্ড) ঝুলে থাকায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে রুটটি।
এই বিশাল বরফখণ্ডটি ধসে না পড়া পর্যন্ত পর্বতারোহীদের অপেক্ষা করা ছাড়া নেই আর কোনো উপায়।
বিপজ্জনক এই বরফখণ্ডটির গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঘটনাস্থলে কাজ করছেন আইসফল ডক্টরস নামে পরিচিত একদল বিশেষজ্ঞ কর্মী।
তারা ড্রোন, থ্রিডি ইমেজারি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্ধারণের চেষ্টা করছেন সেরাকটির অবস্থান ও এর ধসে পড়ার সম্ভাব্য সময়।
সাধারণত মৌসুমের শুরুতে এই বিশেষজ্ঞ কর্মীরাই দড়ি, মই ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে তৈরি করেন চূড়ায় ওঠার পথ। কিন্তু এ বছর বরফখণ্ডটি অস্থিতিশীল থাকায় এখনো পথ তৈরি করতে পারেননি তারা।
অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা এজিএ অ্যাডভেঞ্চারসের সহ-স্বত্বাধিকারী আদ্রিয়ানা ব্রাউনলি জানান, পর্বতারোহীরা এখানে জড়ো হচ্ছেন। তারা এখানে বিনিয়োগ করেছেন অনেক সময়, শ্রম ও অর্থ। কিন্তু দিনশেষে পাহাড় যদি না বলে, তবে সেটিই চূড়ান্ত। আমাদের চলতে হবে প্রকৃতির নিয়ম মেনে।
রুটটি বন্ধ থাকায় বেস ক্যাম্পে প্রতিদিন বাড়ছে পর্বতারোহীর সংখ্যা। এর ফলে রুটটি উন্মুক্ত হওয়ার পর চূড়ায় ওঠার সময় তৈরি হতে পারে বড় ধরনের ট্রাফিক জ্যাম।
নেপালের পর্যটন বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর বসন্তকালীন মৌসুমের জন্য এখন পর্যন্ত ইস্যু করা হয়েছে ২৯৭টি এভারেস্ট পারমিট।
বিগত বছরগুলোতে এই ধরনের বরফখণ্ড ধসে ঘটেছে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা। ২০১৪ সালে খুম্বু আইসফলে এমন এক তুষারধসে মৃত্যু হয়েছিল এক ডজনেরও বেশি শেরপার।
বর্তমানে বেস ক্যাম্পে থাকা পর্বতারোহীরা ছোট ছোট পাহাড়ে আরোহণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাটাচ্ছেন সময়। সবার নজর এখন খুম্বু আইসফলের দিকে। কখন সেই বিশাল বরফখণ্ডটি ধসে পড়ে এবং এভারেস্টের পথ উন্মুক্ত হয়।
সূত্র: সিএনএন।



