ড্রোন হামলায় জ্বলছে লিবিয়ার জাওইয়া তেল শোধনাগার

ছবি: রয়টার্স
একদিকে আকাশ থেকে একের পর এক ড্রোন হামলা, অন্যদিকে আগুনের লেলিহান শিখা। লিবিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো এখন যেন যুদ্ধক্ষেত্র। দেশটির সবচেয়ে বড় সচল তেল শোধনাগার জাওইয়া কমপ্লেক্সে টানা ড্রোন হামলার পর মঙ্গলবারও আগুন নিয়ন্ত্রণে লড়াই করে যাচ্ছেন দমকলকর্মীরা।
আগুন এখনো শোধনাগারের মূল স্থাপনায় বড় ক্ষতি করতে পারেনি বলে প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা আসতে পারে। এমনকি হামলা অব্যাহত থাকলে পুরো কমপ্লেক্সের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছে লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি।
লিবিয়ার জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ব্রেগা পেট্রোলিয়াম মার্কেটিংয়ের তিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, জ্বালানি ও পেট্রলের সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়েনি।
লিবিয়ার জাতীয় তেল করপোরেশন (এনওসি) এর আগে জানিয়েছিল, জাওইয়া শোধনাগারের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হতে পারে। সপ্তাহান্ত থেকে সোমবার পর্যন্ত তৃতীয় দফা ড্রোন হামলার খবর পাওয়ার পর তারা এ সতর্কতা দেয়। শোধনাগারটি মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহ করে।
এনওসি জানিয়েছে, সোমবার তৃতীয় ড্রোন হামলায় জাওইয়া অয়েল রিফাইনিং কোম্পানির পরিচালিত একটি তেল মিশ্রণ ও বোতলজাতকরণ কারখানাকে লক্ষ্য করা হয়। ড্রোনটি কারখানার প্রধান তেলের ট্যাংক ও অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য তেল উৎপাদনে ব্যবহৃত পাইপলাইন নেটওয়ার্কের কাছে গিয়ে পড়ে। এতে কোনো হতাহত বা স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার ভোরে তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাওইয়া কমপ্লেক্সে হামলার কারণে ব্রেগার মালিকানাধীন একটি ট্যাংকে আগুন ধরে যায়। ওই ট্যাংকে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার পেট্রল ছিল। পরে ট্যাংকটি ধসে পড়ে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় জাওইয়া কমপ্লেক্সের একটি লবণমুক্তকরণ কারখানার পাশাপাশি তেল শোধনাগারটিও লক্ষ্য করা হয়েছিল।
বছরের পর বছর ধরে চলা অস্থিরতার কারণে লিবিয়ায় তেল উৎপাদন বারবার ব্যাহত হয়েছে। আফ্রিকার সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত দেশটির থাকলেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
জাওইয়া শোধনাগারটি রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। প্রতিদিন ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে এ শোধনাগারের। এটি প্রতিদিন ৩ লাখ ব্যারেল উৎপাদনক্ষম শরারা তেলক্ষেত্রের সঙ্গে সংযুক্ত।





