সুদানের সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতার বিরুদ্ধে মামলা বাতিল করলেন আইসিসি

গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত সুদানের মানুষ- রয়টার্স
সুদানের দারফুরের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাবেক নেতা আবদুল্লাহ বান্দা আবাকার নুরাইনের বিরুদ্ধে চলমান মামলা বৃহস্পতিবার বাতিল করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারকেরা। অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রমও সমাপ্ত করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০০৭ সালে আফ্রিকান ইউনিয়নের শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত বান্দার বিরুদ্ধে থাকা প্রমাণ সময়ের সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২০১১ সালে অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠনের পর এক দশকেরও বেশি সময়ে প্রমাণের শক্তি আর আগের মতো নেই।
প্রসিকিউটররা বললেন, ‘বান্দা অভিযুক্ত অপরাধগুলোর জন্য দায়ী—এমনটি বিশ্বাস করার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি এখন আর নেই।’
তবে বিচারকেরা বলেছেন, অভিযোগ প্রত্যাহার ও মামলার কার্যক্রম সমাপ্ত করার অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে একই ঘটনায় বান্দার বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করা যাবে না।
২০০৩ সালে সুদানের সরকারের বিরুদ্ধে প্রধানত অ-আরব বিদ্রোহীরা অস্ত্র হাতে নেওয়ার পর দারফুরে সংঘাত শুরু হয়। সে সময় আবদুল্লাহ বান্দা ‘জাস্টিস অ্যান্ড ইকুয়ালিটি মুভমেন্ট’-এর নেতা ছিলেন। এটি তখনকার দারফুরের দুটি প্রধান সশস্ত্র গোষ্ঠীর একটি।
বিদ্রোহ দমন করতে সে সময় সুদানের সরকার আরব মিলিশিয়া ‘জানজাওয়িদ’কে সংঘবদ্ধ করে। তাদের অভিযানে ব্যাপক সহিংসতা চালানো হয়, যা যুক্তরাষ্ট্র ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
২০০৫ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ দারফুরের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠায়।
২০২৩ সালে দারফুরসহ সুদানজুড়ে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়। এতে দেশটির সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) মুখোমুখি হয়। আরএসএফকে ব্যাপকভাবে জানজাওয়িদের উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এ পর্যন্ত দারফুরে সংঘটিত নৃশংসতার ঘটনায় আইসিসি মাত্র একটি মামলার বিচার সম্পন্ন করেছে। ওই মামলায় জানজাওয়িদের এক নেতাকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০০৩ থেকে ২০০৫ সালের দারফুর সংঘাতের ঘটনায় এখনো আইসিসির তিনটি প্রকাশ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর রয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সুদানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির, যিনি গণহত্যার অভিযোগের মুখোমুখি।




