চাদে পানি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৪২

সংগৃহীত ছবি
পানির কূপ নিয়ে বিরোধ থেকে সংঘর্ষে চাদে অন্তত ৪২ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এ সংঘর্ষ হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ওয়াদি ফিরা প্রদেশে প্রথমে দুটি পরিবারের মধ্যে শুরু হওয়া বিরোধ পরে প্রতিশোধমূলক হামলার ধারায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুড়িয়ে দেওয়া হয় বহু গ্রাম।
রবিবার চাদের কর্তৃপক্ষ জানায়, উপপ্রধানমন্ত্রী লিমানে মাহামাতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সেখানে পাঠানো হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে পরিস্থিতি।
মধ্য আফ্রিকার এই দেশটিতে প্রাণঘাতী সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ প্রায়ই ঘটে, যেখানে কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং জাতিগত উত্তেজনা বিদ্যমান।
এ ধরনের সংঘর্ষ সাধারণত শুরু হয় পানি ও চরাঞ্চল নিয়ে প্রতিযোগিতা থেকে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রতিবেশী সুদানের গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আগমনে আরও বেড়েছে সম্পদ ও নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনা।
রবিবার উপপ্রধানমন্ত্রী জানান, সুদানের সংঘাত যাতে সীমান্ত এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাদে এসব সংঘর্ষে নিহত হয়েছে শত শত মানুষ। এর মধ্যে গত নভেম্বরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দিবেবে এলাকায় একটি কূপ নিয়ে বিরোধে নিহত হয় ৩৩ জন।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ১০০টি সংঘর্ষে এক হাজার মানুষ নিহত এবং দুই হাজার আহত হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পশুপালক ও কৃষকদের মধ্যে সাতটি সহিংস ঘটনার তথ্য পেয়েছে তারা, যেখানে ৯৮ জন নিহত হয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে এসব সংঘর্ষ বাড়ছে এবং পুনরাবৃত্তি সত্ত্বেও জনগণকে যথাযথ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অ্যামনেস্টির মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিক্রিয়া অনেক সময় দেরিতে আসে এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয় না, যা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে ‘দায়মুক্তি ও বঞ্চনার অনুভূতি’কে।



