মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হয়ে রাশিয়ায় প্রথম সফরে মিন অং হ্লাইং

জান্তা প্রধান হিসেবে ৪ বার রাশিয়া সফর করেছেন হ্লাইং- রয়টার্স
মিয়ানমারের জান্তা প্রধান থেকে এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন মিন অং হ্লাইং। এর পর থেকে বৈশ্বিক সম্পর্ক বাড়াতে ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে ছুটছেন দেশে দেশে। এবার সোমবার রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এমন তথ্য দিয়েছে রয়টার্স।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর রাশিয়া হবে মিন অং হ্লাইংয়ের সফর করা পঞ্চম দেশ। এর আগে তিনি ভারত, চীন, লাওস এবং চলতি মাসের শুরুতে থাইল্যান্ড সফর করেছেন।
সাবেক এই জেনারেলের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর রয়েছে একাধিক নিষেধাজ্ঞা। সংসদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য ভোটে জয়ী হওয়ার পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। সেনাবাহিনী-সমর্থিত একটি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা নির্বাচনের পর তিনি প্রেসিডেন্ট হন। ওই নির্বাচনে ছিল না কার্যকর কোনো বিরোধী দল।
মিয়ানমারে নিজেদের জ্বালানি কোম্পানিগুলোর জন্য ব্যবসার সুযোগ বাড়াতে আগ্রহী রাশিয়া। ২০২৫ সালে মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে পুতিনের বৈঠকের সময় মিয়ানমারে একটি ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দুই দেশ চুক্তি করে।
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দাওয়েই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে রাশিয়া ও মিয়ানমার। এর আওতায় একটি বন্দর ও তেল শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
মিন অং হ্লাইংয়ের এবারের সফরে একটি মিয়ানমার-রাশিয়া ব্যবসায়িক ফোরামও রয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তার সঙ্গে থাকবেন দাওয়েই অবস্থিত তানিনথারি অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী এবং মিয়ানমারের মহাকাশ সংস্থার প্রধান।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও নেপিদোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্কও জোরদার হয়েছে। রাশিয়া মিয়ানমারের হাজার হাজার সেনাকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য বৃত্তি দিয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমা কয়েকটি দেশের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কাছে অস্ত্রও বিক্রি করেছে দেশটি।
এ ছাড়া চলতি বছরের শুরুতে রাশিয়া জানিয়েছিল, তারা মিয়ানমারের প্রথম মহাকাশচারীকে প্রশিক্ষণ দিতেও সহায়তা করবে।








