রাশিয়া ও চীনকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা
ইরানকে অস্ত্র দিলে পরিণতি ভালো হবে না

শি জিনপিং, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
চীন বা রাশিয়া ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করলে তার পরিণতি ‘খুবই খারাপ’ হবে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করবেন না তারা।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ইরানের ধারাবাহিক হামলার পর রাশিয়া ও চীন তেহরানকে গোয়েন্দা তথ্য বা সামরিক সহায়তা দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলার মধ্যেই তার এমন বক্তব্য।
ট্রাম্পের দাবি, বেইজিংয়ে সাম্প্রতিক বৈঠকে সি চিন পিং তাকে বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই চীন বা চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রি করবে না। তার ভাষ্য, ‘চীনের বেইজিংয়ে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি আমাকে বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই ইরানকে অস্ত্র দেবেন না বা বিক্রি করবেন না তিনি। এর মধ্যে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোও অন্তর্ভুক্ত। আমাদের সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনা করে আমি তার কথা বিশ্বাস করি এবং তা ছাড়া আমি তাকে বড় বড় সুবিধাও দিচ্ছি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইউক্রেন যুদ্ধ চললেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও দিয়েছেন একই ধরনের আশ্বাস। ট্রাম্পের দাবি, পুতিন তাকে জানিয়েছেন, রাশিয়াও ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করবে না।
এছাড়াও হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ‘আমি জানি না, তারা মদদ দিচ্ছে কি না। শি ও পুতিন উভয়ই আমাকে আশ্বস্ত করেছে, ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করবেন না তারা।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘আমি আপনাদের বলতে পারি, প্রেসিডেন্ট শি বলেছেন এতে অংশ নেবেন না তিনি। প্রেসিডেন্ট পুতিনও একই কথা বলেছেন। তাদের বিশ্বাস করি আমি।’
ট্রাম্পের মতে, এ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার পেছনে দুই নেতারই নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘তাই আমি মনে করি না, তারা আমাকে হতাশ করতে চাইবেন।’
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের পর থেকেই তীব্র হয়েছে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত। এ অবস্থায় রাশিয়া ও চীন ইরানকে সামরিক বা গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তির বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলার পর রাশিয়া তেহরানকে লক্ষ্যবস্তুর তথ্য বা ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে কি না, তা তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বিষয়ে ক্রেমলিন কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এদিকে ইরানকে অস্ত্র সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগে রাশিয়া ও চীনের কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া গত মার্চে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ইরানকে কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি সরবরাহ করেছে রাশিয়া। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।




