যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় নতুন অস্ত্র, ড্রোন প্রযুক্তিতে হাত মেলাল ব্রিটেন-ইউক্রেন
- ব্রিটিশ সেনাঘাঁটিতে ১২ ইউক্রেনীয় প্রতিষ্ঠানের যুদ্ধপ্রমাণিত প্রযুক্তি প্রদর্শন

ছবি: রয়টার্স
যুদ্ধের ময়দানে পরীক্ষিত প্রযুক্তি। আকাশে শত্রুর গতিবিধি শনাক্তের ক্ষমতা। মানুষের নির্দেশ ছাড়াও নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার সক্ষমতা। রাশিয়ার বিরুদ্ধে চার বছরের বেশি সময়ের লড়াইয়ে এমন নানা প্রযুক্তি আয়ত্ত করেছে ইউক্রেন। এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে এগিয়ে এসেছে ব্রিটেন। দুই দেশের প্রতিরক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হাত মিলিয়েছে নতুন প্রজন্মের ড্রোন তৈরিতে। যুদ্ধের অভিজ্ঞতাই হয়ে উঠছে ভবিষ্যতের সামরিক প্রযুক্তির পরীক্ষাগার।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইংল্যান্ডের সলসবেরি প্লেইনের লার্কহিল সামরিক ঘাঁটিতে যৌথ প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে ইউক্রেনের ১২টি ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তুলে ধরে। উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী ও সামরিক কর্মকর্তারা।
প্রদর্শনীতে বিশেষ গুরুত্ব পায় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, শত্রুর অবস্থান শনাক্ত এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত চালকবিহীন উড়োজাহাজ। যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থেকে এসব প্রযুক্তি উন্নত করা হয়েছে।
আয়োজকদের লক্ষ্য, ইউক্রেনীয় উদ্ভাবকদের সঙ্গে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করা। পাশাপাশি যৌথ গবেষণা, উৎপাদন ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো। এতে দুই দেশের প্রতিরক্ষাশিল্পই লাভবান হবে বলে আশা করছে লন্ডন।
ব্রিটেনের সশস্ত্র বাহিনীবিষয়ক মন্ত্রী লুইস স্যান্ডহার-জোন্স বলেছেন, ‘ইউক্রেনের নিরাপত্তাই ইউরোপের নিরাপত্তা।’ তার বক্তব্য, দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও উদ্ভাবকেরা একসঙ্গে প্রযুক্তি তৈরি, বিনিয়োগ এবং সাফল্য অর্জন করুক, সেটিই চায় ব্রিটিশ সরকার।
ড্রোন সক্ষমতা জোটের প্রধান ব্রিগেডিয়ার স্টু নাসে বলেছেন, ‘এই আয়োজনের উদ্দেশ্য উদ্ভাবনকে বাস্তব কাজে রূপ দেওয়া।’ তার মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল সামরিক হুমকি মোকাবিলায় সরকার, সেনাবাহিনী ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ করা প্রয়োজন আরও ঘনিষ্ঠভাবে।
এই উদ্যোগের পটভূমিতে রয়েছে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ব্রিটেন-ইউক্রেনের শতবর্ষী অংশীদারত্ব চুক্তি। এর আওতায় প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও সামরিক উৎপাদনে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
গত সেপ্টেম্বরে ব্রিটেন ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ড্রোন তৈরির নতুন উদ্যোগও ঘোষণা করে। এতে সর্বোচ্চ ১২টি ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। এর আগে দুই দেশ যৌথভাবে শত্রুপক্ষের ড্রোন প্রতিহত করার ‘অক্টোপাস’ প্রকল্প শুরু করে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। কম খরচে নজরদারি ও আক্রমণের সক্ষমতা আধুনিক যুদ্ধের কৌশল বদলে দিয়েছে।
ব্রিটেনের নতুন উদ্যোগও সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। একসময় যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হতো যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর। এখন যুদ্ধ চলতেই বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তি। প্রশ্ন উঠেছে, আগামী দিনের যুদ্ধ কি শুধু সৈন্যের সংখ্যায় নির্ধারিত হবে, নাকি আকাশে উড়তে থাকা ছোট ছোট যন্ত্রের সক্ষমতায়?



