মাইকেল জ্যাকসন কী করছিলেন এপস্টেইনের বিচ হাউসে?

সংগৃহীত ছবি
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্তের দীর্ঘদিনের গোপন নথি প্রকাশ শুরু করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। তবে নথিগুলোর বড় অংশ কালো করে দেওয়া (রেড্যাক্টেড) হওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
প্রকাশিত নথিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসন, রক সংগীতশিল্পী মিক জ্যাগারসহ একাধিক বিশ্বখ্যাত ব্যক্তির ছবি ও নাম উঠে এসেছে। একটি ছবিতে ক্লিনটন, মাইকেল জ্যাকসন ও ডায়ানা রসকে একসঙ্গে দেখা যায়, যা এপস্টেইনের সামাজিক যোগাযোগের পরিধি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে শত শত ছবি, যার অনেকগুলোই আংশিক বা পুরোপুরি কালো করা। একটি তালিকায় ২৫৪ জন ম্যাসাজ থেরাপিস্টের নাম সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছে, যা সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের পরিচয় রক্ষার কারণেই করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
পূর্বে অপ্রকাশিত ছবিতে বিল ক্লিনটনকে হট টাবে বিশ্রাম নিতে এবং এক অজ্ঞাত নারীর সঙ্গে সাঁতার কাটতে দেখা যায়, যাকে এপস্টেইনের সহযোগী ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আলাদা ছবিতে ম্যাক্সওয়েলকে সাবেক ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রুর সঙ্গেও দেখা গেছে।
হোয়াইট হাউস এই প্রকাশনাকে ঘিরে ক্লিনটনকে আক্রমণ করলেও ডেমোক্র্যাট নেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রকাশিত নথি প্রকৃত প্রমাণের সামান্য অংশ মাত্র। সিনেট নেতা চাক শুমার বলেন, “ব্যাপকভাবে কালো করা নথি প্রকাশ আইন ও স্বচ্ছতার চেতনার পরিপন্থী।”
একসময় এপস্টেইনের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক থাকলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ডানপন্থী মহলে এপস্টেইন কাণ্ড নিয়ে বহুদিন ধরে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচলিত রয়েছে।
উল্লেখ্য, এপস্টেইনের সাবেক সহযোগী ও প্রেমিকা ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েলই এ মামলায় একমাত্র দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি। তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারের অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এপস্টেইন ২০১৯ সালে কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন, যা সরকারি ভাবে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করা হয়।
সূত্র : এনডিটিভি ওয়াল্ড

