জাতিসংঘের টাকার সমস্যা সহজেই সমাধান করতে পারতাম: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, জাতিসংঘ যদি তার কাছে সাহায্য চাইত, তাহলে তিনি খুব দ্রুত সংস্থাটির আর্থিক সংকট সমাধান করতে পারতেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গত সপ্তাহে সতর্ক করে বলেন, কিছু সদস্য দেশের অনাদায়ী চাঁদা ও অর্থের ঘাটতির কারণে বৈশ্বিক সংস্থাটি ‘তাৎক্ষণিক আর্থিক ধসের’ ঝুঁকিতে রয়েছে।
গুতেরেস বলেন, যদি চাঁদা আদায়ের হার নাটকীয়ভাবে না বাড়ে, তাহলে জাতিসংঘ ২০২৬ সালের বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারবে না এবং জুলাইয়ের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর জন্য অর্থ ফুরিয়ে যেতে পারে।
গতকাল রোববার পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, জাতিসংঘের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বকেয়া আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তিনি খুব সহজেই সমাধান করতে পারতেন এবং অন্য দেশগুলোকেও অর্থ পরিশোধে বাধ্য করতে পারতেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ওরা যদি আমার কাছে এসে বলত, আমি সবাইকে টাকা দিতে বাধ্য করতাম—যেমনটা আমি ন্যাটোর ক্ষেত্রে করেছি। শুধু এই দেশগুলোর কাছে ফোন করলেই হতো। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা চেক পাঠিয়ে দিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এবিসি নিউজ শুক্রবার জানায়, ওয়াশিংটনের কাছে বর্তমানে জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটে ২.২ বিলিয়ন ডলার এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের আলাদা তহবিলে আরও ১.৮ বিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে। রাশিয়া ডিসেম্বরেই ২০২৬ সালের জন্য তাদের জাতিসংঘের চাঁদা পুরোপুরি পরিশোধ করেছে।
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, আর্থিক পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে জাতিসংঘকে নিউইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত তাদের সদর দপ্তর পর্যন্ত পরিত্যাগ করতে হতে পারে।
তবে ট্রাম্প এ ধরনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, জাতিসংঘ নিউইয়র্ক ছাড়ছে না, যুক্তরাষ্ট্রও ছাড়ছে না, কারণ জাতিসংঘের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি যখন আর যুদ্ধ মেটানোর জন্য থাকব না, তখন জাতিসংঘ সেটা করতে পারবে।
এই বক্তব্য ট্রাম্পের আগের সমালোচনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে তিনি জাতিসংঘকে অকার্যকর বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে তিনি বলেছিলেন, জাতিসংঘের উদ্দেশ্য কী? ওরা শুধু শক্ত ভাষায় চিঠি লেখে, তারপর সেই চিঠির কোনো বাস্তবায়নই করে না। ফাঁকা কথায় যুদ্ধের সমাধান হয় না।
ট্রাম্প এক বছর আগে আবার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কোসহ একাধিক জাতিসংঘ কর্মসূচি ও সংস্থা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।















