‘সেনাদের জীবিত ফেরান’, দায়িত্ব নিয়েই ট্রাম্পকে ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘি কেতাবচি
দায়িত্ব পেয়েই প্রথম বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর তোপ দাগলেন ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘি কেতাবচি। ইরানে আবারও সামরিক অভিযান চালালে ‘বিপুল ক্ষতি’র মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
আজ রবিবার ইরানের পার্লামেন্ট তাকে দেশটির নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন দেয়। এর মধ্য দিয়ে প্রায় আট মাস পর পূর্ণকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেল ইরান। পার্লামেন্টে আখলাঘির নিয়োগের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ২৩৭ জন আইনপ্রণেতা, বিপক্ষে ছিলেন ১৫ জন।
সাংবাদিকদের তিনি বলছিলেন, ‘মানুষ নিশ্চিন্ত থাকতে পারে, তারা (যুক্তরাষ্ট্র) হয়তো আমাদের ওপর হামলা চালানোর সাহস করবে না। যদি করে, তাহলে তাদের নিজেদের এবং পুরো অঞ্চলকে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’
চলতি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ‘সব বোমার মা’ নামে পরিচিত জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) ব্যবহারের হুমকি দিয়েছিলেন।
বিষয়টি ইঙ্গিত করে কটাক্ষ করেন ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত এবং নিশ্চিন্তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত তার সেনাদের জীবিত অবস্থায় এই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবা। তিনি যদি একটি বোমা ফেলেন, তাহলে তাকে দেখতে হবে, কতজন সেনাকে মৃত অবস্থায় সরিয়ে নিতে হয়।’
কে এই মেহরদাদ আখলাঘি কেতাবচি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হলেন আখলাঘি। চার দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পে কাজ করা আখলাঘি এর আগে ইরানের অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের (এআইও) প্রধান ছিলেন।
৬৮ বছর বয়সী এই সামরিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের প্রধান দায়িত্ব এখন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের সামরিক-শিল্প অবকাঠামো পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণ করা। তার প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা এরই মধ্যে দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্তৃপক্ষ, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশনের অনুমোদন পেয়েছে।
আখলাঘির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না। যদিও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তার নাম দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। ২০০৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসেন তিনি। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রও তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আছেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরুর পর থেকে ভার্চ্যুয়ালি চলছে ইরানের পার্লামেন্ট অধিবেশন। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব সাময়িকভাবে পালন করছিলেন মাজিদ এবন-এ রেজা। আখলাঘির নিয়োগের পর তিনি তার উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
চলতি মাসে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি-নিক সাংবাদিকদের বলছিলেন, কৌশলগত অস্ত্রের পরিমাণ ও সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন থেকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে আখলাঘিকে। বিশেষ করে গুরুত্ব পাচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের উৎপাদন এবং উন্নয়ন।
যুক্তরাষ্ট্র বারবার দাবি করেছে, ইরানের সামরিক-শিল্প উৎপাদন সক্ষমতার অধিকাংশই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে তেহরানের বক্তব্য, এখনো দেশটির উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা আছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অস্ত্রের সক্ষমতা আরও বাড়াচ্ছে তারা।



