ফাইনালের হাতছানি বাংলাদেশের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে বাংলাদেশ সবচেয়ে খারাপ খেলে টেস্ট! পরিসংখ্যানই এর বড় প্রমাণ। ২০১৯ সালে প্রথমবার চালু হয় টেস্টের বিশ্বকাপখ্যাত ‘ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ’। প্রথম দুই চক্রে বাংলাদেশ ৯ দলের মধ্যে হয়েছিল নবম। তবে ২০২৩-২৫ চক্রে বাংলাদেশ হয়েছিল সপ্তম।
সেই সাফল্যও এবার ছাড়িয়ে যাওয়ার হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। ২০২৫-২৭ চক্রে সবাইকে চমকে দিয়ে বাংলাদেশ উঠে এসেছে চার নম্বরে। নাজমুল হোসেন শান্তর দলের পয়েন্ট শতাংশ (পিসিটি) ৫৫.৫৬। ৫১.৫২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে ভারত আছে পাঁচে। এই পয়েন্টের হিসাবেই ফাইনাল খেলার সম্ভাবনায় এগিয়ে বাংলাদেশ। একসময়ের আকাশ কুসুম ব্যাপারটা বাস্তব হয়ে ধরা দিতে পারে শেষ ছয়টি টেস্টের ফল ইতিবাচক হলে।
সেই স্বপ্নের কথাই ‘আগামীর সময়’কে জানালেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফিস, ‘এখন যে সাফল্যগুলো আসছে এটা আমাদের মুকুটে পালক হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে যে অবস্থানে আছি সেখান থেকে ফাইনাল খেলা খুব সম্ভব। এজন্য আমাদের সামনের উইন্ডিজ সিরিজে মনোযোগ দিতে হবে। ওই সিরিজ ঘরের মাঠে হওয়ায় আমরা ভালো কিছুর আশা করছি, যা আমাদের পয়েন্ট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।’
বাংলাদেশের টেস্টে উন্নতি নিয়ে শাহরিয়ার নাফিস বললেন, ‘বাংলাদেশ টেস্ট দলের উন্নতির শুরুটা হয়েছিল ২০২৩ চক্র থেকে। আমাদের লক্ষ্য ছিল, এই ফরম্যাটে নিজেদের এগিয়ে নেওয়া। শুধু এই ফরম্যাট খেলে এমন সাত-আটজন ক্রিকেটার আমাদের আছে। তাদেরও একই ইচ্ছা ছিল। বাকিরাও লাল বলের ক্রিকেট নিয়ে খুব সিরিয়াস। তাদের এই আগ্রহের সঙ্গে বিসিবি পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। তাদের যখন যা দরকার, সেসব দিকে খেয়াল রাখা হয়। তাদের যেন আত্মবিশ্বাস সবসময় ওপরের দিকে থাকে সেটাও নিশ্চিত করেছে বোর্ড। এই লম্বা সময় সবাইকে এক লক্ষ্যে ধরে রাখা চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু ক্রিকেট বোর্ড, ক্রিকেটার সবার প্রচেষ্টায় সেটা সম্ভব হয়েছে।’ ফাইনালের জন্য ৬০ শতাংশের কাছাকাছি পিসিটিকে গুরুত্বপূর্ণ সীমা ধরা হয়। ২০২১-২৩ চক্রে ভারত ফাইনাল খেলেছিল ৫৮.৮০ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে। ২০২৩-২৫ চক্রে অস্ট্রেলিয়া ফাইনাল খেলে ৬৭.৫৪ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে।
৬০ শতাংশ পিসিটির জন্য বাংলাদেশের দরকার আরও ৪৭ পয়েন্ট। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্টেই জিতলে বাংলাদেশ পাবে ৪৮ পয়েন্ট আর তখন পিসিটি হবে ৬১.১১ শতাংশ। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এক ম্যাচ জিতলে পিসিটি হবে ৬৯.৪৪ শতাংশ। বাংলাদেশকে সমীহ করে গতকাল প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ ভালো, তারা অবশ্যই আমাদের চাপে রাখবে। আমি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ দেখেছি, যেখানে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়া হেরে গেছে। আমার বিশ্বাস, অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের সামর্থ্য দেখাবে।’
বাংলাদেশের সামনে থাকা অস্ট্রেলিয়ার পিসিটি ৮০, দ. আফ্রিকার ৭৫ আর নিউজিল্যান্ডের ৭২.২২। অস্ট্রেলিয়ার বাকি আরও ১২ টেস্ট, এর পাঁচটি ভারত আর তিনটি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে। ৬০ শতাংশ পিসিটির জন্য তাদের জিততে হবে পাঁচ টেস্ট ও ড্র করতে হবে একটি।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার বাকি আরও ১০ টেস্ট, এর ৮টিই নিজেদের মাঠে। পাঁচ জয় আর দুই ড্রতেও তাদের পিসিটি থাকবে ৬০ শতাংশ। তিনে থাকা নিউজিল্যান্ডের বাকি ১০ টেস্ট। এর চারটি অস্ট্রেলিয়ায় আর দুটি পাকিস্তানের মাটিতে। ঘরের মাঠে তারা দুটি করে টেস্ট খেলবে ভারত ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। এই ১০ টেস্টের ছয়টি জিতলে ও চারটি হারলেও তাদের পিসিটি হবে ৬৪.৫৮ শতাংশ। ফাইনালের জন্য এই তিন দলের সঙ্গেই লড়াই বাংলাদেশের। নাজমুল হোসেনের দল পারবে তো?







