তারা নারী নয়...

নিষিদ্ধ দুই অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন শনিবার দুই অ্যাথলেটকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে এবং ফেডারেশনের আওতাধীন খেলায় তাদের সব অর্জন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর
জান্নাত বেগম এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কবিতা রায়ের লিঙ্গ নিয়ে নিজ নিজ সংস্থা অভিযোগ তুললে এ নিয়ে শুরু হয়েছিল তুলকালাম। অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই পরীক্ষায় নিজেদের নারী প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন দুই অ্যাথলেট।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত বছর ১০ সেপ্টেম্বর একটি পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে অ্যাথলেটদের শারীরিক পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। এ বছর ১১ মে পরীক্ষা শেষ হয় এবং মেডিকেল বোর্ড ১৬ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের কাছে হস্তান্তর করে।
মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী জান্নাত বেগম এবং কবিতা রায়ের হরমোন ও শারীরিক পরীক্ষায় যৌন বিকাশের ভিন্নতা ধরা পড়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাদের পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করে। একই সঙ্গে রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রায়ও প্রমাণিত হয় তারা পুরুষ। বিশ্ব অ্যাথলেটিকস নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে জান্নাতের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা আট গুণ বেশি এবং কবিতার ছয় গুণ বেশি।
এই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটি বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের বিধিমালা অনুযায়ী দুজনকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করে এবং জান্নাতের জ্যাভলিন থ্রো ও ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে জেতা দুটি নতুন জাতীয় রেকর্ডসহ ৮টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ এবং স্প্রিন্টার কবিতা রায়ের ১০০ ও ২০০ মিটার এবং ৪ গুণিতক ১০০ মিটার ইভেন্টে জেতা ১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ পদকগুলোর তালিকায় পরবর্তী স্থানে থাকা অ্যাথলেটদের পুনর্বণ্টন করা হবে।






