বেঙ্গালুরুর কতটা সম্ভব পূর্বাচলে

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে অত্যাধুনিক একটি ক্রিকেট সেন্টার থাকবে; এই স্বপ্ন খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই দেখে এসেছেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হওয়ার পর নিজেই সেই স্বপ্ন সত্যি করার পথে হাঁটছেন সাবেক এই বাঁহাতি ব্যাটার। এরই অংশ হিসেবে জুলাইয়ের শেষদিকে গিয়েছিলেন ভারতের বেঙ্গালুরুতে। দেখে এসেছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’। তামিমের ইচ্ছা ওই সুযোগ-সুবিধার কাছাকাছি মানের হলেও বাংলাদেশে একটা ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ ঢাকার পূর্বাচলে বিসিবির নিজস্ব জায়গায় চালু করা।
বাস্তবতা হচ্ছে, বেঙ্গালুরুতে যে বিশাল পরিসরে ক্রিকেট চর্চা হতে দেখা গেছে, তা পূর্বাচলে নির্মাণ করা ব্যয়বহুল। বেঙ্গালুরু ঘুরে আসা এক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ওই ক্রিকেট কাঠামোর ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা গেলেও খুশি হবেন।
আসলে কী আছে সেখানে? বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সিলেন্স বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ক্রিকেট প্রশিক্ষণকেন্দ্র। প্রায় ৪০ একর জায়গা জুড়ে নির্মিত এ কমপ্লেক্সে রয়েছে তিনটি আন্তর্জাতিক মানের মাঠ, ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে ৮৬টি পিচ, উন্নত জিমনেশিয়াম, সুইমিং পুল, স্পোর্টস সায়েন্স ও মেডিসিন বিভাগ এবং আধুনিক পুনর্বাসন সুবিধা। বিভিন্ন দেশের উইকেটের বৈশিষ্ট্য অনুকরণ করে তৈরি করা পিচে সারা বছর অনুশীলনের সুযোগ পান ক্রিকেটাররা।
সম্প্রতি ভারতের বেঙ্গালুরুতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সেন্টার অব এক্সিলেন্স পরিদর্শন করেছেন তামিম। তার সঙ্গে ছিলেন বিসিবির সহসভাপতি ফাহিম সিনহা ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান শানিয়ান তানিম। সেখানে তারা ইনডোর ও আউটডোর প্রশিক্ষণ সুবিধা, স্পোর্টস সায়েন্স, ভিডিও অ্যানালাইসিস, পুনর্বাসন ব্যবস্থা এবং খেলোয়াড় উন্নয়ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
হুবহু না হলেও পূর্বাচলে প্রায় এই রকম কিছু তৈরির জন্য ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা আছে বিসিবির। বিসিবির ওই সূত্র থেকে জানা যায়, ‘পপুলাসের ডিজাইন অনুযায়ী বর্তমান অনুশীলন মাঠটিকে আরও উঁচু করে সেখানে ফ্লাডলাইট বসানোর চিন্তা আছে। পাশাপাশি অন্তত ১৫-২০টি নেট, একটি অনুশীলনের জন্য ছোট মাঠ, রিহ্যাব সেন্টার, স্পোর্টস সায়েন্স ইউনিট, ভিডিও অ্যানালাইসিস ল্যাব, সুইমিংপুল, ১০০ জন থাকার মতো ডরমিটরি, জিমনেশিয়াম, বায়োমেকানিকস ল্যাব, মেডিকেল ও রিহ্যাবিলিটেশন ফ্যাসিলিটিস সেন্টার এবং বিসিবির প্রশাসনিক কার্যালয় থাকবে।’
ওই সূত্র আরও যোগ করে, ‘বেঙ্গালুরুর সেন্টারটি বিশাল। সেটির মতো তৈরি করা কঠিন, তবে তার ৩০ শতাংশও যদি করা যায়, তাতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনেক কাজে আসবে।’
প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি সহযোগিতা চাওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছে বোর্ড। এ লক্ষ্যে শিগগির সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। বিসিবির লক্ষ্য, চলতি বছরই প্রকল্পের কাজ শুরু করে আগামী দুই বছরের মধ্যে নির্মাণ শেষ করা। সে কারণে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি সংস্কারের প্রস্তাবিত ৬০ কোটি টাকার প্রকল্প আপাতত স্থগিত রেখে পূর্বাচলের এক্সিলেন্স সেন্টারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বিসিবির নীতিনির্ধারকদের বিশ্বাস, পূর্বাচলে পরিকল্পিত এক্সিলেন্স সেন্টার বাস্তবায়িত হলে জাতীয় দলের প্রস্তুতি আরও আধুনিক হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ক্রিকেটার তৈরির প্রক্রিয়াও নতুন মাত্রা পাবে। ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাংলাদেশের ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হতে পারে এই প্রকল্প।




