ক্রীড়ায় বরাদ্দ বেড়ে ২৫৮৬ কোটি টাকা, নতুন সংযোজন ক্রীড়াবিদ ভাতা

সংগৃহীত ছবি
জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জন্য ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়ন খাতে ১ হাজার ৫৭৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং পরিচালন ব্যয়ের জন্য ১ হাজার ৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।
গত অর্থবছরে সংশোধিত বাজেট ছিল ১ হাজার ৮০৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে এবারের প্রস্তাবিত বরাদ্দ প্রায় ৭৮২ কোটি টাকা বেশি। যদিও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার ৪৩২ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছিল, পরে সংশোধনের মাধ্যমে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনা চলছে।
এবারের বাজেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো ক্রীড়াবিদদের জন্য নিয়মিত ভাতা কর্মসূচি। বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ৫০০ জন খেলোয়াড়কে মাসে এক লাখ টাকা করে ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ খাতে বার্ষিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। বিশেষ বরাদ্দের পরিবর্তে এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় বাজেটেই ক্রীড়াবিদ ভাতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
যুবসমাজকে মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখতে সরকার ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিকেও গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমানে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট—এই আটটি খেলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬২২ জন কিশোর-কিশোরী নিবন্ধন করেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২১ হাজার ৪৯২ জন কিশোর এবং ৪৭ হাজার ১৩০ জন কিশোরী। এই প্রকল্পের জন্য আগামী অর্থবছরে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বিকেএসপি, ক্রীড়া পরিদপ্তর এবং ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ট্রাস্ট। বরাবরের মতোই মন্ত্রণালয়ের মোট বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হবে যুব উন্নয়ন খাতে।
ক্রীড়া অবকাঠামো, ফেডারেশন এবং জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর প্রধান অভিভাবক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। সংস্থাটি শিগগিরই নিজস্ব বাজেট চূড়ান্ত করবে বলে জানা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এবার বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের অনুদান কিছুটা বাড়তে পারে। অন্যদিকে দেশের ক্রীড়াবিদ তৈরির অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান বিকেএসপির জন্য বরাদ্দ বাড়লেও প্রয়োজনের তুলনায় তা এখনও সীমিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


