মুক্তির পর নতুন পেশায় পিস্টোরিয়াস

সংগৃহীত ছবি
প্রেমিকা রিভা স্টিনক্যাম্পকে হত্যার দায়ে দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়েছে তাকে। অবশেষে প্যারোলে মুক্তি পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্যারা-অলিম্পিক তারকা অস্কার পিস্টোরিয়াস জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। ৩৯ বছর বয়সী প্রাক্তন এই ক্রীড়াবিদ সম্প্রতি দেশটির প্রিটোরিয়াভিত্তিক একটি সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থায় কাজ শুরু করেছেন।
নিজের ক্যারিয়ারে 'ব্লেড রানার' নামে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তবে সেই হত্যাকাণ্ড বদলে দেয় পিস্টরিয়াসের জীবন। জাঁকজমকপূর্ণ অ্যাথলেটিক জীবন থেকে দূরে অতি সাধারণ জীবনযাপন করছেন তিনি।
নতুন চাকরির পাশাপাশি তিনি প্রিটোরিয়ার স্থানীয় একটি গির্জায় নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সেবা দিচ্ছেন। সেখানে তাকে নিয়মিত গির্জায় আসা দর্শনার্থীদের গাড়ি পার্কিংয়ে সহায়তা করা এবং কফি পরিবেশন করতে দেখা যায়।
বর্তমানে পিস্টোরিয়াস ওয়াটারক্লুফের অভিজাত এলাকায় চাচা আর্নল্ড পিস্টোরিয়াসের একটি সুরক্ষিত বিলাসবহুল বাড়িতে বসবাস করছেন। শারীরিক সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রাসাদসম বাড়িটির চারপাশে উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন পুনরায় গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং রিতা গ্রেলিং নামে এক নারীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে।
২০১৩ সালের ভ্যালেন্টাইনস ডেতে প্রিটোরিয়ার নিজ বাসভবনে বাথরুমের দরজা ভেদ করে গুলি চালিয়ে প্রেমিকা রিভা স্টিনক্যাম্পকে হত্যা করেন পিস্টোরিয়াস। পরবর্তীতে আদালতে তা অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করা হলেও, দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০১৫ সালে বিচার বিভাগ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়।
কারাদণ্ডের প্রায় অর্ধেক সময় অতিবাহিত করার পর, ২০২৪ সালের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্যারোল বোর্ডের নির্দেশে তিনি শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান।
মুক্তির শর্ত হিসেবে ২০৩১ সাল পর্যন্ত তাকে বিশেষ নজরদারিতে থাকতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে ঘরের বাইরে অবস্থান বা অ্যালকোহল সেবনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।






