ডোপিংয়ের দায়ে দুই বছর নিষিদ্ধ দেশসেরা ভারোত্তোলক মাবিয়া

সংগৃহীত ছবি
মাদারীপুরের সেই টংঘর থেকে উঠে আসা মেয়েটি যখন ২০১৬ সালে এসএ গেমসের পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে দেশের জাতীয় সংগীত শুনছিলেন, তখন তার চোখের লোনাজল ছুঁয়ে গিয়েছিল পুরো বাংলাদেশকে। চরম দারিদ্র্য আর অবহেলার দেয়াল ভেঙে মাবিয়া আক্তার সীমান্ত হয়ে উঠেছিলেন অদম্য এক অ্যাথলেটের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু সেই লড়াকু মাবিয়ার ক্যারিয়ারে এবার নেমে এল ঘোর অন্ধকার।
ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে দুই বছরের জন্য সব ধরনের প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলা থেকে নিষিদ্ধ হলেন দেশের এই শীর্ষ ভারোত্তোলক। সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশনের (সারাদো) রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটি (ওয়াডা) কোড অনুযায়ী এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে মাবিয়াকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের সময়। গেমস শুরুর আগে নিয়মমাফিক ডোপ টেস্টের জন্য মাবিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ল্যাবরেটরিতে সেই নমুনায় নিষিদ্ধ ‘ডাইইউরেটিক্স’-এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। সাধারণত চিকিৎসাবিজ্ঞানে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের করে দেওয়ার জন্য এই ওষুধ ব্যবহৃত হয়, যা ‘ওয়াটার পিল’ নামে পরিচিত।
ভারোত্তোলনের মতো ওজনভিত্তিক খেলায় দ্রুত ওজন কমানোর জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর হলেও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এর ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কারণ, এটি শরীরে অন্য কোনো নিষিদ্ধ উপাদানের উপস্থিতি আড়াল করতে মাসকিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। প্রথম দফার পরীক্ষার পর দ্বিতীয় দফার (বি-স্যাম্পল) পরীক্ষাতেও একই ফল আসায় মাবিয়ার অপরাধ নিশ্চিত হয়। যদিও তিনি এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ পাবেন।
২০১০ সালে মামার হাত ধরে ভারোত্তোলনে আসা মাবিয়া ২০১৩ সাল থেকে দেশের ঘরোয়া আসরে ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে করতে তিনি জয় করেছিলেন আন্তর্জাতিক অঙ্গন। ২০১৬ এসএ গেমসে ৬৩ কেজি বিভাগে স্বর্ণ জিতে দেশকে প্রথম গৌরব এনে দেন তিনি। ২০১৯ সালে নেপালে আবারও স্বর্ণ জিতে প্রমাণ করেন তিনি ফুরিয়ে যাননি। ২০১৮ কমনওয়েলথ গেমসে ১৮০ কেজি ওজন তুলে ষষ্ঠ হওয়া ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তার সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। কোচদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, ফেডারেশনের অবহেলা আর নিজের ব্যক্তিগত লড়াই নিয়ে তিনি ছিলেন অস্থির। কদিন আগেই সংবাদমাধ্যমের সামনে দৃঢ়কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আমি শেষ হয়ে যাইনি’। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, সেই লড়াইয়ের ময়দান থেকেই এখন তাকে ছিটকে পড়তে হলো দুই বছরের জন্য। ২৬ বছর বয়সী একজন ভারোত্তোলকের জন্য দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা মানে ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে পৌঁছে যাওয়া।

