ব্যাটিং কোচের মিউজিক্যাল চেয়ার

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ব্যাটিং কোচের চেয়ারটি হয়ে গেছে ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’। মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও মোহাম্মদ আশরাফুলের মধ্যে চলছে অদল-বদল। ২০২৫ সালে জাতীয় দলে ব্যাটারদের নিয়ে কাজ করার দায়িত্বে থাকার পরও সালাউদ্দিনের পাশে ব্যাটিং কোচ হয়ে আসেন মোহাম্মদ আশরাফুল। কয়েক মাস আগে সহকারী কোচের পদ থেকে বাদ পড়েন সালাউদ্দিন। গত শনিবার আবার আশরাফুলকে সরিয়ে সেই চেয়ারটি দেওয়া হয় সালাউদ্দিনকে।
কীসের ভিত্তিতে কয়েক মাসের ব্যবধানে সালাউদ্দিনের এই প্রত্যাবর্তন, কিংবা কী ব্যর্থতায় আশরাফুলকে বিদায় করা হলো— তার কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবির এই নীরবতার কারণ লুকিয়ে আছে দুই কোচের অধীনে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং লাইনের পারফরম্যান্স ও গোলমেলে পরিসংখ্যানে।
দুই কোচের অধীনে টাইগারদের ৯৪টি ইনিংসের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে ব্যাটিংয়ের নানান চিত্র ফুটে ওঠে।
আশরাফুল অধ্যায়: টেস্টে সফল, সীমিত ওভারে খরা
আশরাফুলের অধীনে বাংলাদেশ দল তিনটি ফরম্যাট মিলিয়ে ৪২টি ইনিংস খেলেছে। সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে টেস্ট ক্রিকেটে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৮৭/৮ রানের পাহাড়সম ইনিংস এবং পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট জয় ছিল ব্যাটিং কোচ আশরাফুলের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। তার অধীনে ১৬টি টেস্ট ইনিংসের মধ্যে ১১ বার বাংলাদেশ দল দেড়শর বেশি স্কোর করতে পেরেছে। আবার একশর নিচে অলআউট হওয়ার নজির আছে তিনটি।
আমি কেন নেই, এটা ক্রিকেট বোর্ড ভালো বলতে পারবে। আমরা যারা কোচ, আমাদের চুক্তিটা এ রকমই হয় যে, ক্রিকেট বোর্ড যদি মনে করে আমাকে অন্য কোথাও কাজ করাবে, সেটা তাদের এখতিয়ারে আছে-
মোহাম্মদ আশরাফুল
তবে জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে ১৪২ রানে অলআউট হওয়ার মতো ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআই ত্রিদেশীয় সিরিজে ২০০ রান পার করতে না পারার চরম দৈন্যতাও আছে। যদিও ওয়ানডেতে দল সর্বোচ্চ ২৯০ রান করেছে, কিন্তু সর্বনিম্ন ১১৪ রানে অলআউট হওয়ার নজিরও রয়েছে তার ৪২ ইনিংসের সংক্ষিপ্ত অধ্যায়ে।
সালাউদ্দিন অধ্যায়: টি-টোয়েন্টিতে ভালো, ওয়ানডেতে চরম ধস
অন্যদিকে, সালাউদ্দিনের অধীনে বাংলাদেশ দল তিন ফরম্যাটে ৫২টি ইনিংস পার করেছে। সালাউদ্দিনের সময়কালে সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা ছিল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট। রেকর্ড ২৮টি টি-টোয়েন্টি ইনিংসের মধ্যে ১৫ বার ১০০-১৪৯ রান এবং ১৩ বার দেড়শর বেশি স্কোর গড়েছে দল, যার মধ্যে আরব আমিরাতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২০৫ রানের পুঁজিও ছিল। টেস্টে আফগানিস্তানের কাছে ১০৯ রানে অলআউট হওয়ার একটি সর্বনিম্ন রেকর্ড থাকলেও বাকি ১১টি ইনিংসের মধ্যে ৮ বারই দেড়শর বেশি রান এসেছে সালাউদ্দিনের অধীনে।
কিন্তু সালাউদ্দিনের বিদায়ের মূল কারণ লুকিয়ে ছিল ওয়ানডে সংস্করণের চরম ব্যর্থতায়। তার সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩২১ রানের ঝকঝকে সর্বোচ্চ স্কোর থাকলেও, আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণের সামনে মাত্র ৯৩ রানে অলআউট হওয়ার চরম লজ্জায় ডুবতে হয়েছিল বাংলাদেশকে।
কে কোথায় সেরা
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, লাল বলের ক্রিকেট অর্থাৎ টেস্টে ব্যাটারদের টেকনিক ও দীর্ঘ সময় ক্রিজে টিকে থাকার মানসিকতা তৈরিতে আশরাফুল ছিলেন বেশ সফল। অন্যদিকে, সাদা বলের আধুনিক ঘরানা, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সালাউদ্দিনের কৌশলে ব্যাটাররা অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ ও ধারাবাহিক ছিলেন।
আশরাফুল কী বলছেন
আশরাফুলের কথায় সেই আক্ষেপটা ফুটে উঠেছে। একটি টুর্নামেন্ট উদ্বোধনে এসে আশরাফুল বলেছেন, ‘শনিবার মাগরিবের পর জানতে পেরেছি যে, ব্যাটিং কোচ থেকে রেস্ট দেওয়া হয়েছে এবং বাকি সময় যে তিন মাস সময় আছে, সেটা যখন অ্যাসাইনমেন্ট, কোনো কাজ থাকবে, তখন জানানো হবে। আমি কেন নেই, এটা ক্রিকেট বোর্ড ভালো বলতে পারবে। আমরা যারা কোচ, আমাদের চুক্তিটা এ রকমই হয় যে, ক্রিকেট বোর্ড যদি মনে করে আমাকে অন্য কোথাও কাজ করাবে, সেটা তাদের এখতিয়ারে আছে।’



