হামজাদের ঘিরেই স্বপ্নের নতুন বাতাবরণ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের ফুটবলে সোনালি সময়ের গল্পে শিরোপার মুকুট নেই। যখন দক্ষিণ এশীয় ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরেছে তখন আবার রঙ হারাতে থাকে ফুটবল। বাংলাদেশ ফুটবলের উত্থান-পতনকে সাফের আয়নায় দেখার চেষ্টা করেছেন সুদীপ্ত আনন্দ। তারই শেষ পর্ব আজ
দেশি-প্রবাসীতে মিলে মিলে বাংলাদেশ ফুটবলে নতুন এক বিপ্লব হয়ে গেছে। এক বছর আগে হামজার গায়ে লাল-সবুজের জার্সি ওঠার সময় থেকেই দেশের ফুটবলে তৈরি হয়েছে নতুন আশা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ খেলা হামজা অনেক বড় নাম, বড় আকর্ষণও। সুবাদে শমিত সোম, ফারহান আলী, জিদান ইউসুফ, জায়ান আহমেদ, সুকি ইতোফুসাসহ অনেকে তার পিছু নিয়ে এসেছেন এ দেশে। তাদের সম্মিলনে এশিয়ান কাপের পরীক্ষায় দলের চেহারা ইতিবাচক রূপ ধরা পড়েছে। সুতরাং এই প্রবাসী তত্ত্বে সাফের স্বপ্ন দেখতে দোষ কী।
প্রবাসী ফুটবলার তত্ত্বের উদ্যোক্তা বাফুফে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা এবং ভালোমন্দ দুটোই আছে। তবে বিশ্ব ফুটবলে পিছিয়ে পড়া দলগুলো বংশোদ্ভূত ফুটবলার ভিড়িয়ে সমৃদ্ধ হওয়ার রেওয়াজ তৈরি হয়েছে। তাতে শরিক হয়েছে বাফুফেও। তাদের নিয়োগ দেওয়া জার্মান-আমেরিকান কোচ থমাস ডুলিও মনে করছেন, কিছু ভালো ফুটবলার হাতে পেয়েছেন এবং সদর্পে ঘোষণাও দিয়েছিলেন, ‘এই দলের সাফ শিরোপা জেতার সামর্থ্য আছে।’
প্রবাসীতে জাতীয় দলের যে শক্তি বেড়েছে, তাতে সন্দেহ নেই। প্রবাসীর অন্তর্ভুক্তির পেছনে আবাহনীর কোচ মারুফুল হক দায় দেখছেন স্থানীয় ফুটবলারদের, ‘স্থানীয় খেলোয়াড়দের কমিটমেন্টের অভাব আছে। তারা জাতীয় দলে খেলার জন্য মুখিয়ে থাকে। অথচ তার জন্য নিজেকে সারা বছর প্রস্তুত করে না। নিজেকে প্রস্তুত রাখার তাড়নাটা নিজেদের থেকে থাকতে হয়। আর এখনকার ফুটবলারদের মধ্যে কোচের নির্দেশনা অনুসরণের প্রবণতা অনেক কম। আমি যখন মোহামেডানের কোচ ছিলাম, তখন অনেক বড় তারকা কোচের নির্দেশনা অনুসরণ করত। সে সময় ৯০ শতাংশ খেলোয়াড় কোচের নির্দেশনা মানত। এটা ২০১২-১৩-এর দিকে কমে আসে ৬০-৭০ শতাংশে। করোনার পর সেটা এখন ১০ শতাংশে নেমেছে। ক্লাবে ঠিক না হলে জাতীয় দলে ভালো করা সম্ভব নয়। স্থানীয়রা ওয়ান-টু-ওয়ান চ্যালেঞ্জে গিয়ে ভেঙে পড়ছে প্রায় প্রতি ম্যাচে। স্থানীয়দের অযোগ্যতার সুযোগে খেলছে প্রবাসীরা।’
২০১৫ সাফের বাংলাদেশ দলের কোচ মারুফুল প্রবাসী ফুটবলারেও স্বপ্ন দেখেন না— ‘আমার মনে হয় না জিতবে। একাদশে পাঁচ-ছয়জন প্রবাসীর সঙ্গে বাকিরা তো স্থানীয়। একটা দল সফল হয় প্রতিটি বিভাগ একসঙ্গে কাজ করলে। বাংলাদেশে স্থানীয়দের মধ্যে এখন ম্যাচ উইনার দেখি না। তাদের সামর্থ্যের ঘাটতি আছে।’
ছয়টি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলা মামুনুল ইসলাম অবশ্য অতটা নেতিবাচক নন। বরং প্রবাসীতে আস্থা রেখে তিনি স্বপ্ন দেখেন শিরোপা জয়ের, ‘বিদেশে বেড়ে ওঠা একঝাঁক বাংলাদেশি এখন লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করছে। হামজা, শমিতদের কারণে দলের শক্তিও বেড়েছে। এখন কোচ যদি সঠিকভাবে দলটিকে পরিচালনা করতে পারে, তবে ঘরের মাঠের সুবিধা নিয়ে এবার বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের ভালো সম্ভাবনা দেখছি।’
শিরোপার মঞ্চ প্রস্তুত। নয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত দ্বিতীয় সারির দল পাঠাচ্ছে। গত ছয় সাফের চারটিতে (২০১১, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২১) বাংলাদেশের পথের কাঁটা নেপালও পড়েছে ফিফার নিষেধাজ্ঞায়। দেশের মাঠে এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর হয় না।



