সুপার লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা
বিলাতি বিনিয়োগে বদলে যাবে ফুটবল

দেশের ঘরোয়া ফুটবলের খোলনলচে বদলে দিতে আন্তর্জাতিক মানের লিগ আয়োজনের প্রস্তাব নিয়ে হাজির হয়েছে এক বিলাতি প্রতিষ্ঠান। কয়েক দফা বৈঠকের পর বাংলাদেশ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ নামে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এটাকে বাফুফে উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ মনে করলেও নিয়েছে ইতিবাচকভাবে।
ইউকে-ভিত্তিক শক্তিশালী ডায়াসপোরা কমিউনিটি ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া খাতের বিনিয়োগকারীদের কনসোর্টিয়াম বাংলাদেশ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ-এর উদ্যোগে সম্পূর্ণ বেসরকারি অর্থায়নে বাংলাদেশ সুপার লিগ (বিডিএসএল) আয়োজনের প্রস্তাব পেয়েছে বাফুফে। যদি এটা বাস্তবায়িত হয়, বদলে যেতে পারে দেশের ফুটবলের চিত্র।
বাফুফের পক্ষে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার এবং বাংলাদেশ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান নাজির আলম। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালসহ বাফুফের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে হয় চুক্তি স্বাক্ষর। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার ব্যারিস্টার মুশতাক আহমেদ।
চুক্তির ধরণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম বলেন, ‘আজকের এমওইউ-কে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখছি আমরা। চুক্তিটি এভাবে করা হয়েছে যাতে বাফুফে আইনগতভাবে বাধ্য থাকবে না এবং ভবিষ্যতে অন্য কেউ এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে এলেও স্বাগত জানাবে। তবে কোনো সংস্থাকে সুযোগ না দিলে তাদের চেষ্টার মূল্যায়ন হবে না বলেই এই সম্পর্কটা আমরা তৈরি করেছি।’
ঘরোয়া ফুটবলের বাস্তবতার কথা তুলে ধরে ফাহাদ করিম আরও বলেন, ‘আমাদের ঘরোয়া লিগ নিয়ে হতাশার শেষ নেই। আমরা দায়িত্বশীল জায়গায় আছি, সেখান থেকে আমাদের অস্বীকার করার উপায় নাই যে ঘরোয়া লিগটা যে জায়গায় থাকার কথা, সেখানে এখনো নিতে পারিনি। ইউকে ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি একটি হাইব্রিড মডেলে লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা বা বিভাগের নামে নতুন দল আসবে। এএফসি ও ফিফার গাইডলাইন মেনেই সবকিছু করা হবে।’
প্রতিষ্ঠানটি আগামী ছয় মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব বাফুফের কাছে জমা দিবে। সেটা বিচার বিশ্লেষণ করবে বাফুফের পেশাদার ফুটবল লিগ কমিটি। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নির্বাহী কমিটির কাছে দেওয়া হবে। ফাহাদ বলেন, ‘আমি মনে করি তারা যেভাবে পরিকল্পনা করছে, সেটা করা আমাদের প্রেক্ষাপটে বেশ চ্যালেঞ্জিং। তারপরও আমরা ইতিবাচক থাকতে চাই। যখন তাদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পাবো সেটা গভীরভাবে খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাহী কমিটি।’
বাংলাদেশ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান নাজির আলম নিজেদের পরিকল্পনার কিছুটা ব্যাখ্যা করেন এভাবে, ‘আমরা যাচাই করতে চাই যে বাংলাদেশে একটা শতভাগ বেসরকারী বিনিয়োগে সরকারকে সমর্থন দেওয়ার সুযোগ রেখে কোনো লিগ আয়োজন করা যায় কিনা। প্রতিষ্ঠিত ক্লাবগুলোর যে ঐতিহ্য, ফ্যানবেস ও লেগাসি আছে, সেটাকে সম্মান জানিয়ে এবং নতুন জেনারেশনকে ফুটবলে সম্পৃক্ত করতে আমরা একটা সেতু তৈরির চেষ্টা করছি।’
বিনিয়োগকারীদের নাম প্রকাশ না করলেও নাজির আলম দাবি করেন বিশ্বের ক্রীড়াক্ষেত্রে দীর্ঘদিন নানা পরিচয়ে কাজ করা বিনিয়োগকারীরাই বাংলাদেশে লিগ আয়োজনের নেপথ্যে থাকবে, ‘কাতারে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে এমন অভিজ্ঞ সংস্থাসহ বিশ বিলিয়ন ডলারের ওপর স্পোর্টস পোর্টফোলিও থাকা গ্লোবাল পার্টনাররা আমাদের সঙ্গে যুক্ত আছে। সরকারের ওপর আমরা কোনো আর্থিক চাপ দিতে চাই না।’
নাজির আলম আরও দাবি করেন, কেবল ফুটবল নয়, পর্যায়ক্রমে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে তারা এভাবে কাজ করতে চায়, যাতে ২০৪৪ সালে বাংলাদেশকে দিয়ে যাতে অলিম্পিক আয়োজনের জন্য তৈরি করা যায়, ‘আমরা অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে স্ট্র্যাটেজিক্যালি কাজ শুরু করেছি। আয়োজক দলগুলোর স্টেডিয়াম সংস্কার, ফ্যান বেস তৈরি ও উন্নত ব্রডকাস্ট নিশ্চিত করতে বড় বিনিয়োগ থাকবে। আশা করি আগামী ছয় মাসের মধ্যে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে পারব।’
সংবাদ সম্মেলনে লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার ব্যারিস্টার মুশতাক আহমেদ আশা প্রকাশ করেন যে, ইংল্যান্ডে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ফুটবল অনুরাগী ও স্পোর্টস এক্সপার্টদের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের ফুটবল উন্নয়নে এই উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখবে।





