এনজোকে কেনার শেষ সুযোগ দিল চেলসি, দাম আকাশছোঁয়া

দলবদলের গুঞ্জনের মাঝে বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে বিক্রির জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে চেলসি। ইংলিশ ক্লাবটি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, আগামী শুক্রবার ব্রিটিশ সময় বিকেল ৫টার মধ্যে যদি কোনো ক্লাব ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড বা তার বেশি প্রস্তাব নিয়ে না আসে, তবে এই আর্জেন্টাইন তারকার দলবদলের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
বিবিসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৫ বছর বয়সী এনজো ফার্নান্দেজের স্ট্যামফোর্ড ব্র্রিজে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় মূলত গত মার্চ মাস থেকে। ওই সময় তিনি প্রথমবারের মতো রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তার এজেন্ট হাভিয়ের পাস্তোরে প্রকাশ্যে বলেছিলেন, কঠিন একটি মৌসুম কাটানোর পর তার ক্লায়েন্ট কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন এবং ক্লাব ছাড়তে চান।
যদিও রিয়াল মাদ্রিদ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, এনজোকে দলে টানার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। ফলে বর্তমানে এনজোর একমাত্র সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে মাঠে রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। বিশেষ করে সিটির বর্তমান বস এনজো মারেস্কা মৌসুমের মাঝপথেই চেলসি ছেড়ে যাওয়ায় তার অধীনে এই মিডফিল্ডারের যোগ দেওয়ার গুঞ্জন জোরালো হয়েছে।
একইসঙ্গে সিটি কর্তৃপক্ষ ফরাসি ক্লাব লিলের মরক্কান মিডফিল্ডার আইয়ুব বুআদ্দির ওপরও নজর রাখছে। তাই তারা এনজোর জন্য ১২০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশাল মূল্য পরিশোধ করতে রাজি হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ২০২৩ সালে বেনফিকা থেকে ১০ কোটি ৭ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে এনজোকে দলে ভেড়ালেও চেলসি তাদের অবস্থানে সম্পূর্ণ অনড় রয়েছে। নতুন মৌসুম শুরুর আগে দলের ভেতরে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাতেই মূলত এই ডেডলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে গত বুধবার বিকেলে নতুন কোচ জাবি আলোনসোর অধীনে প্রথমবারের মতো দলের সাথে পূর্ণ অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন এনজো ফার্নান্দেজ। এনজোর ভবিষ্যৎ নিয়ে কোচ বিস্তারিত প্রকাশ করতে রাজি হননি। তবে চেলসি ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, যদি শুক্রবারের মধ্যে কোনো ক্লাব নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করতে না পারে, তবে এনজোকে স্কোয়াডের সাথে পুরোপুরি একীভূত করে নেওয়া হবে এবং তিনি দলের অন্যতম মূল খেলোয়াড় হিসেবেই মাঠে থাকবেন।
উল্লেখ্য, গত মৌসুমে চেলসির জার্সিতে ৫৪ ম্যাচে ১৫টি গোল ও ৭টি অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি সম্প্রতি আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন এনজো, যদিও ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে যাওয়ার ম্যাচে লাল কার্ড দেখতে হয়েছিল তাকে।





