কেইনদের সামনে আফ্রিকান চ্যালেঞ্জ

বিশ্বকাপে তারা এসেছে ছয় দশকের অপেক্ষা ঘোচাতে। ‘ইটস কামিং হোম’ মিশনের শুরুটাও করেছে বিধ্বংসী রূপে। ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রায় আজ দ্বিতীয় বাধা আফ্রিকার দেশ ঘানা।
গ্রুপ পর্বে দুই দলই জিতেছে নিজেদের প্রথম ম্যাচ। গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে আছে ইংলিশরা। ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু কেইনের দলের।
ক্রোয়াটদের বিপক্ষে ম্যাচে ইংল্যান্ডের প্রাপ্তি কম নয়। দাপটের সঙ্গে খেলা, গতিময় ফুটবল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ। তার চেয়েও বেশি যেন অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোল। যে কেইনকে নিয়ে এত আশা, এত স্বপ্ন, সেই কেইনের তৃতীয় বিশ্বকাপটা শুরু হয়েছে গোল দিয়েই।
ঘানার জয়টা অবশ্য এত বড় ব্যবধানে আসেনি। শক্তিমত্তায় কিছুটা পিছিয়ে থাকা পানামার কাছে প্রায় হোঁচট খেতে বসেছিল তারা। সেলেব ইয়েরেংকির ৯৫তম মিনিটের গোলে স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। ব্যবধান অল্প হলেও ঘানার গতিময় ফুটবল আলাদা করেই নজর কেড়েছে এবার।
ঘানা বিশ্বকাপে চমক দেখিয়েছে এর আগে। ২০০৬ সালে প্রথম অংশগ্রহণেই শেষ ষোলো, ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল। ব্ল্যাক স্টারসরা এবারও আছে নকআউট পর্বে যাওয়ার দৌড়ে। ইংল্যান্ড তাই বাড়তি সতর্কই থাকবে তাদের বিপক্ষে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দেশ মুখোমুখি হয়েছে মাত্র একবার। ২০১১ সালের সেই প্রীতি ম্যাচ ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। ঘানার মুখোমুখি না হলেও আফ্রিকার দেশগুলোর বিপক্ষে অবশ্য ইংল্যান্ডের পরিসংখ্যান ঈর্ষণীয়। আট ম্যাচে একটিতেও ইংল্যান্ডকে হারাতে পারেনি তারা। পাঁচ জয় ও তিন ড্রয়ে ইংল্যান্ড তাই এই মহাদেশের দলের কাছে অজেয়। ঘানা আজ ভেঙে দিতে পারে সেই রেকর্ড। ইউরোপের দেশকে হারিয়ে চমক দেখানোর ইতিহাস যে তাদের আগেও আছে!
ইংল্যান্ডের সামনে হাতছানি দিচ্ছে ১৯৬৬ সালের স্মৃতিকে ফেরানোর। ওই শেষবার টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে চার গোল করেছিল তারা। ঘানার গোলপোস্টে চার গোল দিলে ৬০ বছর আগের স্মৃতি ফিরিয়ে আনবে কেইনরা।
ম্যাচের মূল লড়াই হতে পারে মাঝমাঠে। ইংল্যান্ড বলের দখল ধরে রাখতে চাইবে, আর ঘানা অপেক্ষায় থাকবে প্রতিপক্ষের ভুলের জন্য। তাই কে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটিই অনেকাংশে ফল নির্ধারণ করবে।
ইংল্যান্ড যদি দ্রুত গোল পেয়ে যায়, তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে তাদের হাতে। কিন্তু ঘানা যদি প্রথমার্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, তাহলে চাপটা কিন্তু ফিরে আসবে ইংল্যান্ডের ওপরেই।
ঘানার বিপক্ষে শুধু জয়ের জন্যই মাঠে নামছেন না কেইন। আগের ম্যাচে জোড়া গোলে ছুঁয়েছেন কিংবদন্তি গ্যারি লিনকারকে (১০ গোল)। আর মাত্র এক গোল করলেই লিনেকারকে পেছনে ফেলে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সেরা গোলদাতা হয়ে যাবেন থ্রি লায়ন্স অধিনায়ক।




