বিবর্ণ রোনালদো ছন্দহীন পর্তুগাল

কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হলান্ড, লিওনেল মেসি; প্রত্যেকেই এবারের বিশ্বকাপে নিজ নিজ দলের প্রথম ম্যাচে পেয়েছেন একাধিক গোলের দেখা। তাই পর্তুগালের মহাতারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে
নিয়েও তৈরি হয়েছিল প্রত্যাশার পাহাড়। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই হতাশ করল পর্তুগাল, হতাশ করলেন রোনালদো। কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচের ৬ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার পরও গোল হজম করে ১-১ সমতায় পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়েছে হিউস্টনে। প্রতিবেশী স্পেনের মতোই আফ্রিকার একটা দলের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট ভাগ করল পর্তুগাল; পার্থক্য শুধু একটাই যে, তারা অন্তত একটা গোল করেছে।
১৯৭৪ বিশ্বকাপে জায়ার নামে খেলেছিল কঙ্গো ডিআর। তিন ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছিল তারা, হজম করেছিল ১৪ গোল আর করতে পারেনি একটিও। ২০২৬ বিশ্বকাপে তারা সুযোগ পেয়েছে ৫২ বছর পর, আন্তঃমহাদেশীয় প্লেঅফে জ্যামাইকাকে হারিয়ে। প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে মাঠে নেমেই গোলের দেখা পেয়েছে কঙ্গো। বিশ্বকাপে কঙ্গোর হয়ে প্রথম গোলটা ইয়োইয়ানে উইসার। ফ্রান্সে জন্মানো উইসা খেলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল নিউক্যাসলে।
ষষ্ঠ মিনিটে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। জোয়াও নেভেসের হেড এগিয়ে নেয় গতবারের কোয়ার্টার ফাইনালিস্টদের। প্যারিস সেন্ত জার্মেইতে খেলা এ মিডফিল্ডারের পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে এটাই প্রথম ম্যাচ এবং প্রথম ম্যাচেই তিনি পেয়েছেন গোলের দেখা। এর আগে পর্তুগালের হয়ে তিনটি গোল তিনি করেছিলেন আর্মেনিয়ার বিপক্ষে, বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে উইসার গোলে সমতা ফেরায় কঙ্গো। সতীর্থের ক্রসে হেডে গোল করেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে পর্তুগালের জোয়াও ক্যানসেলো বল জালে পাঠালেও সেটা অফসাইডে বাতিল হয়েছে। সেটাই বলা যায় পর্তুগিজদের সেরা সাফল্য। এর বাইরে গোলের জোরালো কোনো সুযোগই সৃষ্টি করতে পারেনি রবার্তো মার্তিনেসের শিষ্যরা। বরং ৭৭ মিনিটে দারুণ বিল্ডআপের পর গোলকিপারকে একা পেয়েও পোস্টের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারলেন সেদ্রিক বাকাম্বু। রিয়াল বেতিসে খেলা বাকাম্বু পারেননি কঙ্গোর হয়ে দ্বিতীয় গোলটা করতে। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে ‘কে’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচ। বলের দখলে পর্তুগাল এগিয়ে থাকলেও গোলমুখী প্রচেষ্টায় কঙ্গোই এগিয়ে। রোনালদোও পারেননি কোনো সুযোগ সৃষ্টি করতে। প্রথম ম্যাচ শেষে শুধু হতাশাই উপহার দিলেন ভক্তদের।




