ফোঁতেনের রেকর্ডও হুমকির মুখে!

সংগৃহীত ছবি
জুস্ত ফোঁতেনের রেকর্ডকে এতদিন মনে হতো দূর আকাশের নক্ষত্র, যার কাছে পৌঁছানো যায় না। মেসির পায়ে গোল যেভাবে লুটিয়ে পড়ছে, তাতে কি সেই নক্ষত্রকে খুব দূরের মনে হচ্ছে?
ভক্তরা চাইবেন আশাবাদী হতে। জীবনের আরেকটা বছর শেষ করে আজ লিওনেল মেসি পা রাখবেন চল্লিশে। আগের বছরের শেষটা যেভাবে রাঙিয়েছেন, সেই ধারায় নতুন বছরের গর্ভেও লুকিয়ে থাকতে পারে আরও অলৌকিক কিছু। ৩৯ পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগে যেসব কীর্তি গড়েছেন, তাতে পরিষ্কার যে, বয়স এ আর্জেন্টাইন অধিনায়কের পায়ে শিকল পরাতে পারেনি। তিনি এ টুর্নামেন্টের শুরুতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, শুধু অংশ নিতে আসেননি, এসেছেন ইতিহাস গড়তে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল— মাত্র দুই ম্যাচেই পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে তিনি। তাই ফোঁতেনের এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৩ গোলের রেকর্ডও হুমকির মুখে।১৯৫৮ সালে মাত্র ছয় ম্যাচে ১৩ গোল করেছিলেন এ ফরাসি কিংবদন্তি। তারপর কেটে গেছে ৬৮ বছর। বিশ্বকাপ ফিরে ফিরে এসেছে, বদলেছে ফুটবল, অনেক তারকার আসা-যাওয়া হয়েছে কিন্তু ফোঁতেনের সেই রেকর্ড এখনো অটুট। ঐতিহাসিক দিকটা দেখলে মনে হবে, এ রেকর্ড ভাঙা কঠিন। বাস্তবতা বলছে, অসম্ভব নয়। প্রথমত ৪৮ দলের বিশ্বকাপে ম্যাচ বেড়েছে। আগের চেয়ে একটি ম্যাচ বেশি খেলার সুযোগ পাচ্ছে দলগুলো। আর্জেন্টিনা যদি ফাইনাল পর্যন্ত যায়, তাহলে মেসির সামনে থাকবে আরও ছয়টি ম্যাচ। অর্থাৎ ১৩ গোলের রেকর্ড ছুঁতে ছয় ম্যাচে করতে হবে আট গোল। দ্বিতীয়ত, নকআউটে পা রাখা আর্জেন্টিনার সামনে গ্রুপের শেষ ম্যাচ জর্ডানের বিপক্ষে। দুই ম্যাচে পাঁচ গোল খাওয়া জর্ডানকে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ বলাই যায়। ফলে মেসির গোলসংখ্যা বাড়ার সুযোগ আছে। নকআউটেও আর্জেন্টিনার সামনে অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে ‘এইচ’ গ্রুপের উরুগুয়ে বা কেপ ভার্দের সঙ্গে। সুতরাং নকআউটে গোল বাড়ানোরও ভালো সুযোগ আছে মেসির।
ফোঁতেনের ১৩ গোলের রেকর্ড ছুঁতে মেসির প্রয়োজন আর মাত্র আট গোল। এটি অসম্ভব নয়, তবে ফুটবল ঈশ্বর তার সবচেয়ে প্রিয় শিল্পীর জন্য বিশ্বকাপ ইতিহাসে আরেকটি অলৌকিক অধ্যায় লিখে রেখেছেন কি না, তা শুধু তিনিই জানেন।









