বোধ হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রযুক্তির নানান উদ্ভাবন সহজ করেছে মানুষের জীবন। সে অনেক পুরনো অতীত; কিন্তু এ সহজ জীবনই নাকি ধীরে ধীরে ‘মোবাইল মানব’-এ রূপান্তর করবে মানুষকে? কালের হাত ধরে পরিবর্তন আনবে শরীরের বাইরে? ভেতরে অঙ্গপ্রত্যঙ্গে? স্মার্ট ফোনে ঝুঁকতে ঝুঁকতে ঘাড় হয়ে যাবে কুঁজো, ছোট হয়ে আসবে মগজ, শৃঙ্খলা হারিয়ে আঁকাবাঁকা হবে আঙুল, ভাঁজ পড়বে চোখে। শুনতে খারাপ লাগলেও এমনই হবে পৃথিবীর ২১০০ সালের মানুষ। হারাবে স্বাভাবিক শ্রী। এককথায় এত সুদর্শন থাকবে না এখনকার মতো।
প্রযুক্তির ওপর অতিনির্ভরতার ফলেই ওই হাল হবে তাদের। নিছক অনুমান নয়; ২০২২ সালের এক গবেষণায় উঠে এসেছে মানবজাতির ভবিষ্যতের এ অবয়ব। প্রযুক্তিবিষয়ক কিছু গবেষকদের সমন্বয়ে গবেষণাটির আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্রের ‘টোল ফ্রি ফরোয়ার্ডিং’ নামক একটি আন্তর্জাতিক টেলিকম কোম্পানি। ২০২৫ সালে এ গবেষণা নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ইউক্রেনিয়ান একটি ওয়েবসাইট দেভ.ইউএ। গবেষণার জন্য তৈরি করা হয় ভবিষ্যতের মানুষের একটি থ্রিডি মডেল। নাম দেওয়া হয় ‘মিন্ডি’। দেখলেই মনে হবে, স্মার্ট ফোনের সঙ্গে সম্পর্কটা একটু বেশিই মাখামাখি হয়ে গেছে। সিরিয়াস পর্যায়ের।
প্রযুক্তি যে মানুষের ওপর তার এত বড় প্রভাব ফেলতে পারে সেটিই বড় আকারে দেখানো হয়েছে মডেলটির মাধ্যমে। গবেষকদের ধারণা, সারাক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে ক্রমেই পিঠ কুঁজো হয়ে যেতে পারে ভবিষ্যতের মানুষের। মোটা হতে পারে ঘাড়ের পেশি, এমনকি খুলিও নাকি পুরু হয়ে যেতে পারে কিছুটা। বিজ্ঞানীদের মতে, ভবিষ্যতে শারীরিক সক্ষমতার গুরুত্ব কমে গেলে এবং প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়তে থাকলে মস্তিষ্কের আকারও কিছুটা ছোট হতে পারে মানুষের। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে হাতে। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘টেক্সট ক্লো’। অর্থাৎ স্মার্টফোন হাতে আঁকড়ে ধরে রাখতে রাখতে আর দিন-রাত খুদে বার্তা টাইপ করতে করতে হাতের আঙুল আর কবজি এমনভাবে বদলে যাবে যে, আঁকাবাঁকা নখের থাবার মতো দেখতে হবে সেগুলো। এ সময় মানুষ হাত মেলায়, ভবিষ্যতে হয়তো থাবা মেলাবে! গবেষক দলের আরেকটি ভবিষ্যদ্বাণী এসেছে চোখ নিয়ে। অতিরিক্ত স্ক্রিনের আলো থেকে বাঁচতে মানুষের চোখে বাড়তি একধরনের পাতা বা ভাঁজ তৈরি হতে পারে।
অবশ্য এসবই আপাতত পূর্বাভাস। ২১০০ সালের মানুষ সত্যিই কুঁজো পিঠ, নখসদৃশ হাত আর ছোট মস্তিষ্ক নিয়ে হাঁটবে কি না, তা সময়ের হাতে। এটি আসলেই বাস্তবতা নাকি সায়েন্স ফিকশন গল্প তা ৭৪ বছর পরেই হয়তো তার সত্যতা পাবে মানুষ। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত, স্মার্টফোন এখন শুধু সময় খাচ্ছে না, ভবিষ্যতের চেহারা আর দেহটাও মনে হয় একটু একটু করে ডিজাইন করে ফেলছে।




