বিশ্বকাপে ডানা মেললেন এমবাপ্পে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের ঠিক পাঁচ মাস পর প্যারিসের শহরতলি বন্ডিতে জন্ম হলো এক শিশুর। ললাটে শ্রেষ্ঠত্বের কোনো তিলক নিয়ে সে পৃথিবীতে আসেনি, কিন্তু তার ছোট্ট পায়ে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন এঁকে দিতে এক মহাপরিকল্পনা নিয়েছিল তার পরিবার। ছেলেকে বসাতে হবে ফুটবলবিশ্বের সিংহাসনে। শুনতে অবাস্তব মনে হলেও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর স্বপ্নে বিভোর সেই শিশু মাত্র তিন বছর বয়সেই মুখস্থ করে ফেলেছিল ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত ‘লা মার্সেইয়েজ’! বন্ডির সেই শিশুটিই এখন ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলছে। তাকে নিয়ে বাবা-মায়ের সেই নিখুঁত ছকটিই আজ ফুটবলবিশ্বে ‘প্রজেক্ট এমবাপ্পে’ নামে পরিচিত।
মঙ্গলবার রাতে কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে সেনেগালের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে ফ্রান্স। অথচ ম্যাচের প্রথমার্ধে ফ্রান্সের সেই দুর্ধর্ষ আক্রমণভাগকে যেন চেনা যাচ্ছিল না। বরং তাদের ওপর রীতিমতো ছড়ি ঘোরাচ্ছিল সেনেগাল। দুর্ভাগ্য আফ্রিকার দেশটির, বেশ কিছু সুযোগ পেয়েও তারা কাজে লাগাতে পারেনি।
৬৬ মিনিটে ডান পাশে বক্সের বাইরে থেকে ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে এবারের বিশ্বকাপে নিজের ও দলের প্রথম গোলটি করেন রিয়াল মাদ্রিদ সুপারস্টার। এরপর যোগ করা সময়ে অনেকটা দূর থেকে বুলেটগতির শটে অলিভিয়ের জিরুকে ছাড়িয়ে বনে যান ফ্রান্সের সর্বোচ্চ গোলদাতা। জাতীয় দলের হয়ে এমবাপ্পের গোল এখন ৫৮টি।
মাত্র ২৭ বছর বয়সে জাস্ট ফন্টেইন, মিশেল প্লাতিনি, জিনেদিন জিদান, থিয়েরি অঁরি কিংবা অলিভিয়ের জিরুদের উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন এমবাপ্পে। রেকর্ড হারানোর রাতে এমবাপ্পেকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন স্বয়ং জিরু, ‘কিলিয়ানকে অভিনন্দন। আমি ওর জন্য খুবই আনন্দিত। এটি তো হওয়ারই ছিল। সে দেশের হয়ে গোল করার সব রেকর্ড ভেঙে দেবে। আমার মনে হয় সে খুব সহজেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১০০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলবে এবং ক্লোসার বিশ্বকাপের রেকর্ডও ভেঙে দেবে। খুব কম বয়স থেকেই সে নিজের লক্ষ্য নিয়ে ভীষণ সচেতন। মাঠ ও মাঠের বাইরে কিলিয়ান একজন প্রকৃত নেতা এবং দুর্দান্ত এক টিমমেট।’
ঘরের দেয়ালে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পোস্টার সাঁটিয়ে বড় হওয়া এই বিস্ময় বালক মাত্র ১৪ বছর বয়সে মোনাকোর একাডেমিতে যোগ দেন। ১৬ বছর ৩৪৭ দিন বয়সে থিয়েরি অঁরির রেকর্ড ভেঙে মোনাকোর ইতিহাসের কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে তার অভিষেক হয়। ২০১৭ সালে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুকে নিজের নতুন ঘর বানিয়ে নেন এমবাপ্পে। তার শৈশবের বন্ধু রায়ান ভিয়াঙ্গা জানান, কিলিয়ানের জীবন ছিল স্রেফ স্কুল, ফুটবল আর বাড়ি। ছোটবেলা থেকেই ও নিজের বয়সের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল এবং সবসময় সেরাদের সঙ্গে খেলতে চাইত।
সেই বিস্ময় বালকের নামের পাশে এখন শোভা পাচ্ছে টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার গৌরব। তবে মাটিতে পা রেখে মনে করিয়ে দিলেন- এখনো অনেক পথ বাকি, ‘আমি দেশের হয়ে ইতিহাস গড়তে এবং বিশ্বকাপ জিততেই মাঠে নামি। এটি শুধু গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ। আমার মনে হয়, মানুষ একটু বেশিই মাতামাতি করবে। তবে আমাদের সবসময় মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে এবং নিজেদের কাজটা নিখুঁতভাবে করে যেতে হবে।’




