ব্রাজিল মাঠে নামছে

সংগৃহীত ছবি
১৯৫৮ বিশ্বকাপে গারিঞ্চার ড্রিবল দেখে বিরতির সময়ই সোভিয়েত ইউনিয়নের ডিফেন্ডাররা জানতে চেয়েছিলেন, ‘ও কি রক্ত-মাংসের না রাবারে তৈরি?’ শুধু গারিঞ্চা নন, সেই বিশ্বকাপের পেলে, দিদি, ভাভাদের অন্য গ্রহরেই মনে হচ্ছিল বিপক্ষ দলগুলোর। মন মাতানো ফুটবল খেলে ব্রাজিল প্রথম বিশ্বকাপ জেতে সেবারই। ফুটবলে ‘জোগো বনিতো’ কিংবা সাম্বার ছন্দ তখন থেকেই হৃদয় কাড়ে পুরো বিশ্বের।
ফুটবল ব্রাজিলে কেবল নিছক খেলা নয়। এটি তাদের জন্য ধর্ম, অহম ও অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা চিরন্তন এক পরিচয়। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে ‘জোগো বনিতো’র সুন্দর ফুটবল এখন অতীত।
এর শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৪ বিশ্বকাপ থেকে। ১৯৭০ সালের পর একেকটা বিশ্বকাপ ব্রাজিলের কাছে ছিল স্বপ্নভঙ্গের বেদনার নাম। সাফল্য পেতে সুন্দর ফুটবল একপাশে সরিয়ে রেখে সোনালি ট্রফিটা জিততেই বেশি মনোযোগী ছিল কার্লোস আলবার্তো পাহেইরার অধীনে খেলা ব্রাজিল। অধিনায়ক কার্লোস দুঙ্গা অক্ষরে অক্ষরে পাহেইরার কৌশল মেনে ২৪ বছর পর ব্রাজিলকে এনে দেন শিরোপা।
সেই যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ সময় ১৪ জুন ভোর ৪টায় আরও একটি বিশ্বকাপের অভিযান শুরু হচ্ছে ব্রাজিলের। সেটি ২৪ বছরের আরও একটা ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙতে। ২০০২ সালের পর যে আর বিশ্বকাপ জেতা হয়নি পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের। ১৯৯৪ সালে যে আক্ষেপ মিটেছিল যুক্তরাষ্ট্রে, একই দেশে
২৪ বছরের আরেকটি আক্ষেপ কি মিটবে এবার?
এর একটা ইঙ্গিত পাওয়া যেতেই পারে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে। আফ্রিকান দলগুলো এমনিতে বিশ্বকাপে চমকে দেয় পরাশক্তিদের। এমনকি মরক্কোও সর্বশেষ দেখায় ২-১ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিলকে। আফ্রিকান দলটি নিজেদের প্রমাণ করে ২০২২ বিশ্বকাপে খেলেছিল সেমিফাইনালে। তারা ফিফা র্যাংকিংয়ে এখন ৭ নম্বরে। ব্রাজিলের ঠিক একধাপ নিচে। তাই
ব্রাজিলকে ভয় না পেয়ে মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেছেন, ‘আরও একটা বিশ্বকাপে আমরা, এটা গর্বের।’
প্রথম ম্যাচের ঠিক আগে ছিটকে গেছেন উইঙ্গার আব্দে এজ্জালজুলি ও ডিফেন্ডার নাইয়েফ আগুয়ের্দ। তাদের জায়গায় গতকাল নেওয়া হয়েছে আমিনে সাবাই ও মারওয়ানে সাদানেকে।
ব্রাজিল ফুটবলের সেই বসন্ত হয়তো নেই। তবে কার্লো আনচেলত্তির হাত ধরে এবার ২৪ বছরের খরা কাটাতে তারা মরিয়া। হেক্সা বিশ্বকাপ অভিযানে অবশ্য দলের সেরা রাইটব্যাক ওয়েসলিকে হারিয়েছে তারা। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পেয়ে ছিটকে যান তিনি। ওয়েসলি মিসরের বিপক্ষে যতক্ষণ মাঠে ছিলেন, ততক্ষণ পাকেতা খেলছিলেন অতিরিক্ত মিডফিল্ডার হিসেবে। দানিলো মাঠে নামার পর ডান পাশটা ‘পঙ্গু’ হয়ে যায় ব্রাজিলের। সেই দানিলো, পাকেতাকে নিয়ে মরক্কোর আক্রমণ সামলানোটা চ্যালেঞ্জ ব্রাজিলের জন্য। পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা মার্কিনিয়োস এবার ব্রাজিলের অধিনায়ক। মিসরের বিপক্ষে তার শিশুতোষ ভুলে গোল হজম করাটাও দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে সমর্থকদের।
একাদশ যেমনই হোক, আনচেলত্তির হাত ধরে এবার শিরোপার স্বপ্নই দেখছে ব্রাজিল। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সেই আশাবাদই জানালেন গোলকিপার আলিসন, ‘তিনি সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন। সেটি তার অভিব্যক্তিতেই দেখতে পাবেন। খেলোয়াড়রাও সেটি লক্ষ্য করে। তিনি ফুটবলে সবকিছু জিতে এখন ব্রাজিল জাতীয় দলের সঙ্গে আছেন আনন্দ আর উৎসাহ নিয়ে।’




