স্পেনের অস্ট্রিয়া পরীক্ষা

লামিন ইয়ামাল ও মার্সেল সাবিৎজার। গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একদিকে ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি স্পেন, অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নিজেদের অবস্থান নতুনভাবে জানান দেওয়া অস্ট্রিয়া। শুধু শেষ ষোলোর টিকিট নয়, এ লড়াই দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনেরও।
স্পেনের ধৈর্যশীল পাসিং আর বল দখলের দর্শনের বিপরীতে অস্ট্রিয়ার তীব্র গতি, হাই-প্রেসিং ও আক্রমণাত্মক মানসিকতা। ইতিহাস, পরিসংখ্যান এবং তারকাদের বিচারে এগিয়ে লা রোহা। এ লড়াইয়ে প্রশ্ন একটাই— স্পেন কি নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখবে, নাকি অস্ট্রিয়া লিখবে বিশ্বকাপের আরেকটি অঘটনের গল্প?
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে স্পেন। ১৬ দেখায় তারা জয় পেয়েছে ১০ ম্যাচে। অস্ট্রিয়ার জয় মাত্র দুটিতে। ২০০০ সালে ইউরো বাছাইয়ে স্পেনের কাছে রেকর্ড ৯-০ গোলে হারের বাজে রেকর্ডও আছে অস্ট্রিয়ার। শেষবার দুই দলের দেখা হয়েছিল ১৭ বছর আগে। ২০০৯-এর সেই ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল স্প্যানিশরা। বিশ্বকাপে অবশ্য একবারই দেখা হয়েছে দুই দলের। ১৯৭৮ আসরে স্পেনকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল অস্ট্রিয়া।
গ্রুপ পর্বে নিজের সেরা ফর্মে না থাকলেও স্পেনের মূল ভরসা লামিন ইয়ামাল। তরুণ এই ফুটবলারের পায়ের জাদুর দিকেই তাকিয়ে থাকবেন দে লা ফুয়েন্তে। নিকো উইলিয়ামসের ইনজুরি কিছুটা চিন্তায় ফেলেছে কোচকে।
এবারের সেমিতেই স্পেনের সঙ্গে দেখা হয়ে যেতে পারে বিধ্বংসী ফর্মে থাকা ফ্রান্সের। নকআউটে মাঠে নামার আগে ইয়ামাল বলছেন, ফ্রান্স তাদের চেয়ে ভালো দল নয়, ‘এমন কোনো দল নেই, যাদের হারানো অসম্ভব। ফ্রান্স আমাদের চেয়ে ভালো নয়। ইউরোর পর থেকে ওরা আমাদের হারাতে পারেনি। এখানে কোনো ফেভারিট নেই। কেউ আমাদের চেয়ে এগিয়ে নেই। যখন কোনো প্রতিযোগিতা আসে, আমি মনে করি আমি জিতব। এখন এটাই আমার মাথায় ঘুরছে। আমি বিশ্বকাপ জিতব বলেই মনে করছি।’
ফাইনাল জয়ের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে— জানতে চাইলে ইয়ামাল বলছিলেন, ‘আমি কখনো উত্তেজিত হই না, কাঁদি না। চোট পাওয়ার সময় কেঁদেছি, মাকে কাঁদতে দেখেও কেঁদেছি। বিশ্বকাপ জিতলে আমি কাঁদব না, এটা অসম্ভব।’
অস্ট্রিয়ার ভরসা মার্কো আরনাউটোভিচ ও মার্সেল সাবিৎজার। গ্রুপ পর্বে দারুণ পারফর্ম করা এ দুই ফুটবলার স্পেনের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখাবেন— এমনটাই স্বপ্ন দেখছে দেশটির সমর্থকরা।




