ডাচ-জার্মানদের নকআউট পরীক্ষা শুরু

সংগৃহীত ছবি
এই পর্বে ভুলের কোনো জায়গা নেই। পা হড়কালেই বিদায়, একমুহূর্তের ভুলেই বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ। রাউন্ড অব ৩২-এর রোমাঞ্চকর ম্যাচে মাঠে নামছে দুই ইউরোপীয় পরাশক্তি জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস। জার্মানদের সামনে লাতিন আমেরিকার লড়াকু দল প্যারাগুয়ে। ডাচদের পেরোতে হবে আফ্রিকান পাওয়ারহাউজ মরক্কোর বাধা।
একদিকে জার্মানির গোছানো, যান্ত্রিক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল, অন্যদিকে প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণ ও কাউন্টার অ্যাটাকিং স্টাইল। টোটাল ফুটবলের জনক ডাচদেরও আছে আক্রমণাত্মক কৌশল, অন্যদিকে অ্যাটলাস লায়নসদের ইস্পাতকঠিন রক্ষণ ও কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবল। সব মিলিয়ে নকআউটের শুরুতেই দুটি ধ্রুপদি লড়াইয়ের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত।
গত দুই আসরে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি জার্মানি। ছয় ম্যাচে করেছিল মাত্র আট গোল। সেই জার্মানিই এবার টুর্নামেন্টের শুরুর দুই ম্যাচে ফিরে পেয়েছে পুরনো রূপ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে খানিকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই ধরাশায়ী হয় জার্মানরা।
লাতিন অঞ্চলে পয়েন্ট তালিকার সবচেয়ে নিচে থেকে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে তারা। প্যারাগুয়ের এ বিশ্বকাপের শুরুটাও ভালো হয়নি। শেষ পর্যন্ত সেরা তৃতীয় দলের একটি হয়ে নকআউটে পা রাখে।
তিনবার ফাইনাল খেলেও শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়নি অভাগা ডাচদের। এবারও বিশ্বকাপ সামনে রেখে গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে পরের রাউন্ডে উঠেছে ফন ডাইকরা। আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কোও গ্রুপে অপরাজিত ছিল। তবে গোল ব্যবধানে ব্রাজিলের চেয়ে পেছনে পড়ে রানার্সআপ হতে হয়েছে তাদের।
১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা প্যারাগুয়ে এ ম্যাচে নামছে সম্পূর্ণ ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে। গ্রুপ পর্বে যদিও তারা দেখিয়েছে, কীভাবে কম পজিশন নিয়েও ম্যাচ বের করে নেওয়া যায়। জার্মানির হাই-প্রেসিং ফুটবলকে আটকাতে প্যারাগুয়ে আজ ‘বাস পার্কিং’ কৌশলের আশ্রয় নেবে। সুযোগ বুঝে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে জার্মানির রক্ষণভাগ কাঁপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা থাকবে প্যারাগুয়ের।
দুই দলের ফুটবল সংস্কৃতির আকাশ-পাতাল তফাত। অতীত পরিসংখ্যানও কিন্তু জার্মানির পক্ষেই কথা বলছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে কখনোই জার্মানদের হারাতে পারেনি প্যারাগুয়ে। দুই দল আন্তর্জাতিক ফুটবলে এ পর্যন্ত মাত্র তিনবার মুখোমুখি হয়েছে। জার্মানির জয় দুটি, ড্র হয়েছে অন্য ম্যাচটি।
এদিকে ডাচদের আক্রমণাত্মক ফুটবল রুখে দিতে মরক্কো খেলবে তাদের স্বভাবসুলভ রক্ষণাত্মক ফুটবল। ব্রাজিলকে প্রথম ম্যাচেই রুখে দিয়েছিল মরক্কো। আচমকা পাল্টা আক্রমণে ব্রাজিলকে যেভাবে চমকে দিয়েছিল তারা, নেদারল্যান্ডসকেও সেভাবে চমকে দিতে চাইবে আশরাফ হাকিমির দল। ডাচ আক্রমণভাগ কীভাবে হাকিমিদের ডিফেন্স ভেঙে গোল করবে, সেটাই দেখার বিষয়।
নেদারল্যান্ডস এবং মরক্কো আন্তর্জাতিক ফুটবলে খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি। দুই দল এ পর্যন্ত তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। ডাচরা জিতেছে দুই ম্যাচে, মরক্কোর জয় একটিতে।




