বলের অস্বাভাবিক গতিতেই শটে এত জোর, এত গোল!

সংগৃহীত ছবি
বেচারা লুকা জিদান। আলজেরিয়ার এই গোলকিপারের জন্য বিশ্বকাপটা বেশ কঠিন। প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসির একটি শট হাতে ছুঁইয়েও ঠেকাতে পারেননি। এরপর জর্ডানের নিসার আল-রাশদানের শটও এই আলজেরিয়ান গোলকিপারের হাতের ফাঁক গলে ঢুকে যায় জালে। বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো গোলকিপারের পারফরম্যন্স সাধারণত এমন হওয়ার কথা নয়, কিন্তু হচ্ছে। যেমন সেনেগালের গোলকিপার এদোয়ার মেন্ডি ও ইরাকের আহমেদ বাসিলসহ বেশ কয়েকজন গোলকিপার দুরপাল্লার শটে হাত লাগিয়েও পারেননি গোল ঠেকাতে। সমস্যা হলো, প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে আসছে বল। মানে বলের অস্বাভাবিক গতি!
বিশ্বকাপের এই বলের নাম ‘ট্রিওন্ডা’। তাতেই সমস্যা দেখছেন সাবেক ইংলিশ গোলকিপার জো হার্ট। বিবিসিতে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘বলটি গোলরক্ষকদের দিকে অপ্রত্যাশিত গতিতে আসে। খেলোয়াড়দের পা থেকে বের হওয়ার সময় যতটা মনে হয়, তার চেয়েও দ্রুত গতিতে আসে বল। মেসির শট জিদানের সহজেই বাঁচানোর কথা ছিল। গোলকিপাররা যখন এই বলের সঙ্গে মানিয়ে নেবে তখন আমরা এমন শট সেভ করতে দেখবো।’
কেউ মুখে বললে তো আর হয় না, বলের অস্বাভাবিক গতি প্রমাণ করতে উপযুক্ত তথ্য-উপাত্তও লাগে।
বিজ্ঞান বলছে ‘ড্র্যাগ ক্রাইসিস’-এর কথা
এ বল নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের গবেষকরা ল্যাবে বলের গবেষণা করে কিছু ব্যাখ্য দাঁড় করিয়েছেন। তারা উইন্ড ট্যানেলের মধ্যে বলটিকে বিভিন্ন কোণ থেকে ছুঁড়ে তার ওপর বায়ুগতিয় (অ্যারোডিনামিক) প্রভাব পরীক্ষা করেছেন। সবসময় মিলেছেন একই ফল।
তবে তারা দেখেছেন, বলের হঠাৎ অস্বাভাবিক গতি। এর নাম দিয়েছেন, ‘ড্র্যাগ ক্রাইসিস’। গবেষণায় দেখা গেছে, বল একটি নির্দিষ্ট গতিতে পৌঁছালে সেটি হঠাৎ আরো দ্রুত এগোতে শুরু করে। এটা হয়, যখন বাতাসের মধ্য দিয়ে দ্রুত চলা কোনো বস্তুর চারপাশের বায়ুপ্রবাহ মসৃণ অবস্থা থেকে টার্বুলেন্ট অবস্থায় রূপ নেয়। তখন বস্তুর পেছনের বায়ু প্রতিরোধ (ড্র্যাগ) কমে যায় এবং তা আরো দ্রুত গতিতে এগিয়ে যায়।
গবেষণায় আরো দেখা গেছে, বলের সেলাই বা প্যানেলের ওপর আঘাত করলে ড্র্যাগের মাত্রা ভিন্ন হয়। বেশি উচ্চতায় খেলা হলে কমে যায় ‘ড্র্যাগ ক্রাইসিস।’
ফিফা কী বলছে
ফিফা চেয়েছিল বিশ্বকাপে একটি বল আনতে যা নিয়ে কোনো বিতর্ক হবে না। তাদের বেশি বিতর্কের মুখে ফেলেছিল ২০১০ বিশ্বকাপের বল ‘জাবুলানি’। কাতার বিশ্বকাপে ‘আল রিহলা’ ছিল ২০টি প্যানেল দিয়ে তৈরি। এবার ‘ট্রিওন্ডা’ তৈরি করা হয়েছে ৪টি প্যানেল দিয়ে এবং তার গভীর সেলাই যেন বলটিকে উড়ন্ত অবস্থায় আরো স্থিতিশীল রাখে।
অ্যাডিডাস এই বল বাজারে আনার আগে ৩০০ ল্যাবে পরীক্ষা করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী বলের নকশা তার গতিপথকে আরো পূর্বানুমানযোগ্য করেছে।
বলের গতিপথ হয়তো খুব পরিবর্তন হচ্ছে না তবে তার অস্বাভাবিক গতি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনেক সাধারণ চোখেও ধরা পড়ছে বলের তুমুল গতি। তাই এবার বেড়েছে গোলের সংখ্যাও!




