ক্ষোভ ঝাড়লেন ইরানের তারেমি
এই বিশ্বকাপ জঘন্য

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকে একের পর এক বাঁধা এসেছে। টুর্নামেন্টে শেষ পর্যন্ত ইরান খেলবে কিনা, সে নিয়েই ছিল শঙ্কা। ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিলেও বিতর্ক তাদের পিছু ছাড়েনি। নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা, বিশ্রাম না পেয়েই ভেন্যু ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর এবার যোগ হলো ভিএআর বিতর্ক। মিসরের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের ভিএআর নাটকে ১-১ গোলের ড্রয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে ইরান। ইরান অধিনায়ক মেহদি তারেমির কন্ঠে ঝড়ল তীব্র ক্ষোভ। তিনি বলছেন, এই বিশ্বকাপে ইরানের সঙ্গে শুধু অন্যায়ই হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে এবারের বিশ্বকাপের শুরু থেকে মাঠের বাইরে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ইরানকে। তাদের মূল অনুশীলন ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা থাকলেও সেটি নিয়ে যাওয়া হয় মেক্সিকোতে।
শুরুতে ফিফা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে দিনে গিয়ে দিনেই ফিরতে হবে ইরানকে। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল সমালোচনার পর ফিফা সিদ্ধান্ত বদলে জানিয়ে দেয়, ম্যাচের আগের দিন এসে ম্যাচ শেষে তাদের আবার চলে যেতে হবে। এদিকে ইরান দলের অনেক স্টাফ পাননি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাও।
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে খেলে যাওয়া ইরান অবশ্য দারুণ খেলেছে প্রথম দুই ম্যাচে। শেষ ম্যাচে মিসরকে হারিয়ে নকআউট পর্বের প্রায় চলেই গিয়েছিল তারা। শেষ মুহূর্তে ২-১ এ এগিয়ে গেলেও অফসাইডের কারণে বাতিল হয় তাদের গোল, ভাঙে ইরানের স্বপ্ন। এখন ইরানের নকআউট ভাগ্য ঝুলে আছে।
নিজের ক্ষোভ জানিয়ে তারেমি বলছেন, ‘এটা জঘন্য বিশ্বকাপ। ফিফার উচিত ছিল সব সমস্যার সমাধান করা। দুর্ভাগ্যবশত শুরু থেকেই তারা সেটি করতে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর ইনফান্তিনো আমাদের ড্রেসিংরুমে এসে বলেছিলেন, ‘এ তো কেবল শুরু।‘ অথচ আগামীকালই গ্রুপ পর্ব শেষ হতে যাচ্ছে। অথচ আমাদের লজিস্টিক দলের কোনো মানুষ ভিসার কারণে এখানে আসতে পারেনি।'
তারেমি আরও জানান, ‘আমাদের কেন বারবার তিহুয়ানা থেকে যাতায়াত করতে হবে? আমরা তিহুয়ানার মানুষকে ভালোবাসি। মেক্সিকোকে ভালোবাসি। তারা খুবই বিনয়ী এবং আমরা তাদের পছন্দ করি। কিন্তু একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এমন একটি পেশাদার টুর্নামেন্টে এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
ইরানের সঙ্গে বারবার অন্যায় হয়েছে দাবি দলের অধিনায়কের, ‘এটি অন্যায়। চরম অবিচার করা হয়েছে আমাদের সঙ্গে। ফিফার কাছে কি এটা ন্যায়সংগত মনে হয়? তারা যদি চায় আমরা টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে যাই, তাহলে ঠিক আছে; আমরা বাদই পড়ে যাচ্ছি। আমাদের সাহায্য করার মতো কোনো লজিস্টিক স্টাফ এখানে নেই। আমরা এসব নিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ করছি, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসছে না।’
ইরান বিশ্বকাপে থাকুক, এটি আদৌ চাওয়া হচ্ছে কি না, এ নিয়ে সন্দিহান তারেমি ‘আমাদের এখানে সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে। লোকে কী চায়, আমি জানি না। তবে আমাদের দিক থেকে মনে হচ্ছে, হ্যাঁ, তারা সম্ভবত এটাই পছন্দ করছে। নাহলে ৯০ মিনিট খেলার পর আমাদের আবার তিহুয়ানায়ায় ফিরে যেতে হবে কেন?’
মিসরের সঙ্গে ড্র করার পর গ্রুপ পর্বে তৃতীয় হয়েছে ইরান। নকআউটের টিকিট পেতে হলে এখন তাদের বাকি ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দলগুলোর একটি হয়ে এখনো পরের পর্বে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে ইরানের।




