বিশ্বকাপ উত্তাপেও হিমশীতল কানাডা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিশ্বকাপের উত্তাপ ছড়িয়ে গেছে পৃথিবীর কোণে কোণে। অংশগ্রহণ করছে না বাংলাদেশ, তবু শুরু হয়েছে প্রিয় দলের পতাকা দিয়ে বাড়ি রাঙানোর সেই চিরচেনা রীতি। ফুটপাত থেকে ঝাঁ-চকচকে বিপণিবিতান— সর্বত্রই বিক্রি বেড়েছে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের জার্সির। কেউ কিনেছেন নতুন টিভি, কোথাও চলছে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন। অথচ বিশ্বকাপ উত্তাপের কেন্দ্রে থেকেও, তিন স্বাগতিকের এক কানাডা আশ্চর্য ধরনের শীতল।
২০২৬ বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের ১৩টি হবে কানাডায়, সমানসংখ্যক ম্যাচ পেয়েছে মেক্সিকো আর ৭৮টি ম্যাচ আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন একসময়ে বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে, যখন বাকি দুই সহ-আয়োজকের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা উচ্চ শুল্কহারের কারণেই দেশটির সঙ্গে তিক্ততা বেড়েছে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের। ১৯৮৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জনের পর ২০২২ সালে— অর্থাৎ বিশ্বকাপের সবশেষ আসরে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছিল কানাডা, এবার তারা খেলছে স্বাগতিক হিসেবে। শীতপ্রধান দেশ কানাডার সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা আইস হকি ও শীতকালীন ক্রীড়া, যে কারণে কানাডা শীতকালীন অলিম্পিকের সফল দলগুলোর একটি। বিশ্ব জুড়ে যে খেলাটি ফুটবল নামে পরিচিত, কানাডায় সেটি সকার। জনপ্রিয়তার নিরিখে, যা দেশটির পঞ্চম জনপ্রিয় খেলা। রাজনৈতিক টানাপড়েনের সঙ্গে টিকিটের চড়া মূল্য এবং আকর্ষণহীন ম্যাচের আধিক্যই বিশ্বকাপ নিয়ে আগ্রহ তৈরি করতে পারেনি কানাডায়— মনে করেন নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক তারিক পাঞ্জা, ‘কারণটা খুব সহজ, রাজনীতি। কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে বেশ টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার ওপর, ফিফা প্রেসিডেন্ট জান্নি ইনফান্তিনো সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ট্রাম্পের সঙ্গে যেভাবে আঠার মতো লেগে রয়েছেন, তা দেখলে মনে হতেই পারে যে এটি আসলে তিনটি ভেন্যু এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন তিনটি আয়োজন। তা ছাড়া, আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার দিক থেকে টুর্নামেন্টটি যে প্রথম থেকেই একতরফা হতে যাচ্ছে, তাও আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল।’
বিশ্বকাপে দর্শকদের পকেট কাটছে ফিফা, স্থানীয় দর্শকরা তাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। অনেক ভেন্যুতেই টিকিট অবিক্রীত। টরন্টোর উদ্বোধনী ম্যাচে এখনো হাজার হাজার টিকিট অবিক্রীত রয়ে গেছে, এমনকি আয়োজক দুই শহর টরন্টো ও ভ্যাংকুভারের কোনোটিতেই এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচও পুরোপুরি হাউজফুল হয়নি। তবে এমনটা যে হতে যাচ্ছে, তা আগে থেকেই অনুমান করা যাচ্ছিল। কারণ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচের সর্বোচ্চ ক্যাটাগরির টিকিটের দাম শুরুই হয়েছে ৩ হাজার ডলার থেকে আর বাকি ম্যাচগুলোর টিকিটের শুরুর দামই প্রায় ৬০০ ডলারের কাছাকাছি। সঙ্গে যোগ হয়েছে ফিফার সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা। টিকিট আবার বিক্রিতে নানা বিধিনিষেধ, স্টেডিয়াম এলাকায় নানা নিয়মকানুনের বেড়াজাল দর্শকদের নিরুৎসাহিতই করছে খেলা দেখতে আসতে।




