ডেভিডের রেকর্ড গড়া হ্যাটট্রিক
৯ জনের কাতারের জালে কানাডার ছয়

সংগৃহীত ছবি
জোনাথন ডেভিডের অনবদ্য হ্যাটট্রিক স্বাগতিক কানাডাকে এনে দিয়েছে এক ঐতিহাসিক জয়। ভেনকুভারে তারা ৯ জনের কাতারকে দিয়েছে ৬-০ গোলে হারের লজ্জা। চলতি বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি। ডেভিড সেই কীর্তি গড়লেন শুক্রবার। প্রথম ম্যাচে বসনিয়ার সঙ্গে ড্রয়ের এই জয়ে দ্বিতীয় পর্বের খুব কাছে পৌঁছে গেছে এবারের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডা।
ম্যাচের ১৬তম মিনিটে সাইলে লারিনের গোলে লিড নেয় কানাডা। বসনিয়ার বিপক্ষেও গোল করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। ২৯ মিনিটে অসাধারণ ভলিতে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডেভিড। ৩৩ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয় কাতার। হুমাম আহমেদ তাজোন বুকাননকে বাজে ট্যাকল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে হুলেন লোপেতেগির শিষ্যদের অবস্থা আরও খারাপ জয়। বিরতির ঠিক আগমুহূর্তে দ্বিতীয় গোল করে ডেভিড সে সুযোগটা নেন।
বিরতি থেকে ফিরে কাতারের আসিম মাদিবো ইসমায়েল কোনেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখলে কাতারের খেলোয়াড় সংখ্যা নেমে দাঁড়ায় ৯ জনে। যা কানাডাকে দেয় বিশ্বকাপের ইতিহাসের নিজেদের সবচেয়ে বড় জয়ের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ। ৬৪ মিনিটে নাথান সালিবার ফ্রি-কিক হয় ৪-০। ৭৫ মিনিটে তার আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন মোহাম্মদ মানাই। আর দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে হ্যাটট্রিকের আনুষ্ঠানিকতা পূরণ করে কানাডাকে ডেভিড এনে দেন এক উদ্যাপনের রাত।
এই হ্যাটট্রিকে ইংলিশ কিংবদন্তি জিওফ হার্স্টের পাশের বসেছেন ডেভিড। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে জিওফ হার্স্টের পর ডেভিডই প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ঘরের মাঠে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করলেন।
ম্যাচ শেষে কানাডার কোচ জেসি মার্শ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মাঠে উপস্থিত সমর্থকদের, ‘আমরা এমন ধরনের ফুটবল খেলতে চেয়েছিলাম যা দর্শকদের রোমাঞ্চিত করবে। আমাদের যে প্রতিভা এবং মানসিকতা রয়েছে তা আমরা প্রদর্শন করতে চেয়েছিলাম। ৪০ মিলিয়ন (চার কোটি) কানাডিয়ান দাবি করবেন যে তারা স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন। এই ৫৫ হাজার দর্শক ভাগ্যবান ছিলেন এবং তারা কী দুর্দান্ত এক পারফরম্যান্সই না দেখলেন।’
কানাডার ইতিহাসে আগে থেকেই সর্বোচ্চ গোলদাতা ডেভিড; জাতীয় দলের হয়ে তার গোল হলো ৪২টি, ৭৯ ম্যাচে।
গ্রুপে শেষ রাউন্ডে আগামী বুধবার সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে কানাডা। ম্যাচটি ড্র করলেই গ্রুপ সেরা হবে তারা। একই সময়ে মুখোমুখি মাঠে নামবে বসনিয়া ও কাতার।
একটি করে জয় ও ড্রয়ে কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের পয়েন্ট সমান ৪। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে কানাডা। বসনিয়া ও কাতারের পয়েন্ট সমান ১ করে।




